ইয়ামালের জাদু দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব
চোখেমুখে কৈশোরের ছাপ স্পষ্ট প্রতীয়মান। বয়স মাত্র ১৯। কিন্তু ফুটবল বিশ্বে নিজের নামটি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন লামিন ইয়ামাল। বিশ্বের সেরা তারকাদের পাশে জড়সড় হয়ে থাকার মতো ফুটবলার তিনি নন। ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন পুরো বিশ্বকে।
সেই পারফরম্যান্সের পর চলতি বিশ্বকাপেও তাকে ঘিরে ছিল আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা। তবে যখন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ডরা নিজ নিজ দলের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। তখন স্পেনের এই বিস্ময়বালক এখনো নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলেও ইয়ামালের নামের পাশে রয়েছে মাত্র একটি গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্য তারকারা এগিয়ে থাকলেও স্পেনের আক্রমণে তার গুরুত্ব একটুও কমেনি। ড্রিবলিং, গতি ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার সামর্থ্য দিয়ে তিনি সতীর্থদের জন্য নিয়মিত জায়গা তৈরি করে দিচ্ছেন।
অবশ্য টুর্নামেন্টে কয়েকটি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন ইয়ামাল। এমন কিছু পরিস্থিতিতে তিনি শট নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন, যেখানে সতীর্থকে পাস দিলে আরও ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবু তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সে আস্থা হারাচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।
তবে সমালোচনা আর পরিসংখ্যানের বাইরেও ইয়ামালের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা কমেনি। বিশেষ করে আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সবার চোখ থাকবে তার দিকেই। বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখাতে পারলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা যে তার আছে, সেটি আগেই প্রমাণ করেছেন এই বিস্ময়বালক। তাই আজকের লড়াইয়ে ইয়ামালের আরেকটি ক্যারিশমাটিক পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনির মতে, তরুণ এই স্প্যানিশ তারকার প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হওয়ার সুযোগ নেই। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়ও ভুল সিদ্ধান্ত নেন। মনে রাখতে হবে, ইয়ামাল এই টুর্নামেন্টে চোট নিয়ে এসেছে। তাই এখনো সে নিজের ছন্দ খুঁজে নিচ্ছে।’
রুনি আরও বলেন, ‘ইয়ামাল যখন বল পায়ে নেয়, তখন প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড় তার দিকে ছুটে আসে। এতে তার সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি হয়। গোলের সংখ্যা হয়তো তার সামর্থ্যের পুরো গল্প বলছে না, কিন্তু স্পেনের আক্রমণে তার প্রভাব স্পষ্ট।’
তরুণ এই তারকা নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে পারলে বিশ্বকাপের বাকি পথেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন।

স্পোর্টস ডেস্ক