যে কারণে সুইজারল্যান্ড ম্যাচে সতর্ক থাকতে হবে আর্জেন্টিনাকে
আর্জেন্টিনার পথচলা যেন রীতিমতো এক রোমাঞ্চকর গল্প। কখনও অনায়াস জয়। কখনও বিদায়ের শঙ্কা। আবার কখনও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষেও এমনই এক নাটকীয় অধ্যায় লিখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে একসময় বিদায়ের শঙ্কায় থাকলেও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে মাত্র ১০ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
আটলান্টার সেই ম্যাচে শুরুটা অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য ছিল হতাশার। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি পেনাল্টি মিস করেন মেসি। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ অভিযান বুঝি সেখানেই শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু বড় খেলোয়াড়রা যে কঠিন সময়েই নিজেদের চেনান, সেটিই আবার প্রমাণ করেন মেসি। তার নেতৃত্বে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা।
এই বিশ্বকাপে অবশ্য এমন নাটক নতুন নয় আর্জেন্টিনার জন্য। গ্রুপ পর্ব সহজেই পার করলেও নকআউটে বারবার বিপদে পড়েছে তারা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে রক্ষা পাওয়ার পর মিসরের বিপক্ষেও বিদায়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত জিতলেও এমন পারফরম্যান্স দলটিকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বকাপ জয়, দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা এবং দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের পথে ফেরানো স্কালোনি দেশের অন্যতম সফল কোচ। তাই এতদিন তাকে নিয়ে সমালোচনাও ছিল কম। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। সংবাদ সম্মেলনে তার সিদ্ধান্ত ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। অনেক সময় সাধারণ প্রশ্ন নিয়েও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে কঠিন দুই ম্যাচের পরও স্কালোনির দাবি ছিল, তার দলই পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দুই প্রতিপক্ষই দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল। এমন পারফরম্যান্স নিয়ে সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নামা সহজ হবে না। কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও লিড হারালে এবার হয়তো ফিরে আসার সুযোগ নাও মিলতে পারে। তাই থাকতে হবে সতর্ক।
সেমিফাইনালে উঠতে হলে শুধু মেসির জাদুতে ভরসা করলেই চলবে না, পুরো দলকে আরও গোছানো ফুটবল খেলতে হবে। আর্জেন্টিনা অবশ্য বারবার প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তাদের হারিয়ে দেওয়া যায় না।

স্পোর্টস ডেস্ক