ফিনিক্স পাখির মতোই ফিরে এলো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
ফুটবল এক অনিশ্চয়তার খেলা। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আশা যে ফুরিয়ে যায় না কোনো দলেরই। সেটাই আবারও প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৮তম মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসে বিদায়ের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু রাজসিক প্রত্যাবর্তন।
শেষের ঝড়ো আক্রমণে টানা তিন গোল করে ৩–২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা। আর তাতেই যেন আরও একবার প্রমাণ হলো, চ্যাম্পিয়নরা শেষ বাঁশি বাজার আগে কখনও হার মানে না।
ফুটবলে বড় দলগুলোর পরিচয় শুধু শিরোপার সংখ্যায় নয়। সংকটের মুহূর্তে নিজেদের কীভাবে সামলে নেয়, তাতেও। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া, অধিনায়কের পেনাল্টি মিস, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া-- সবকিছুই যেন আর্জেন্টিনার বিদায়ের গল্প লিখছিল। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জানে, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় শেষ বাঁশিতে, মাঝপথে নয়। তাই তারা আতঙ্কিত হয়নি, ভেঙেও পড়েনি। বরং আরও বেশি বিশ্বাস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস ম্যাচটিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। অনেক দলের জন্য এমন একটি মুহূর্তই ভেঙে পড়ার কারণ হতে পারত। কিন্তু আর্জেন্টিনা ভুলকে দুর্বলতা হতে দেয়নি। সেই ব্যর্থতার পরও প্রতিটি আক্রমণে ছিল সাহস। প্রতিটি পাসে ছিল আত্মবিশ্বাস, প্রতিটি দৌড়ে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই রূপ নিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় কামব্যাকে।
এই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একক ফুটবলার নন। বরং একটি দল হিসেবে তাদের অদম্য মানসিকতা। চাপ যত বেড়েছে, তারা ততই নিজেদের সেরাটা বের করে এনেছে। প্রতিপক্ষ যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। তখন আলবিসেলেস্তেরা ইতিহাস লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মহান দলগুলোর পরিচয় এখানেই। তারা প্রতিকূলতাকে ভয় পায় না, বরং সেটিকেই নিজেদের শক্তিতে পরিণত করে।
হয়তো এই কারণেই আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কারণ চ্যাম্পিয়নদের প্রকৃত পরিচয় শুধু ট্রফির ঝলকানিতে নয়। প্রতিকূলতার অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ফিরে আসার সামর্থ্যে। যখন পরাজয় অবশ্যম্ভাবী মনে হয়, যখন বিদায়ের অপেক্ষায় থাকে পুরো বিশ্ব, তখনই তারা নতুন করে বিশ্বাসের জন্ম দেয়। আর্জেন্টিনা আবারও দেখিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো স্বপ্নের মৃত্যু হয় না। আর সেই অদম্য বিশ্বাস, অটুট সাহস ও রাজসিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষমতাই আলবিসেলেস্তেরাদের অন্য সবার থেকে আলাদা করে। বারবার তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদার যোগ্য প্রমাণ করে।

স্পোর্টস ডেস্ক