হলান্ডদের থামাতে পারবে ব্রাজিল? কী বলছে সুপারকম্পিউটার
কাগজে-কলমে ব্রাজিলই এগিয়ে। তবে প্রতিপক্ষ যখন আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে, তখন কোনো সমীকরণই নিশ্চিত বলা যায় না। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই মহারণের আগে পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস অবশ্য কার্লো আনচেলত্তির দলকেই এগিয়ে রাখছে। তবে নরওয়ের সাম্প্রতিক ছন্দ ও হলান্ডের দুর্দান্ত গোল করার ধার ব্রাজিলের জন্য কঠিন এক পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষণধর্মী পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটারের ২৫ হাজার সম্ভাব্য সিমুলেশনে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৫৪.২ শতাংশ। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২১.৮ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৬৭.৪ শতাংশ, নরওয়ের ৩২.৬ শতাংশ।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। চার দেখায় এখনো জয় পায়নি সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচে জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের দেখাতেও ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল নরওয়েজিয়ানরা।
আরও একটি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে ভাবাচ্ছে। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচে বিদায় নিয়েছে তারা। সেই হতাশার অধ্যায় শেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াই এখন আনচেলত্তির দলের লক্ষ্য। অন্যদিকে, হলান্ডদের স্বপ্ন ব্রাজিলকে হারিয়ে আরও একটি ইতিহাস রচনা করা।
শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে ব্রাজিলকে। পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। ক্যাসেমিরো সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত হয়। টুর্নামেন্টে ব্রুনো গিমারায়েস ইতোমধ্যে চারটি গোলে সহায়তা করেছেন। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট আছে শুধু পেলের, যিনি ১৯৭০ সালে করেছিলেন ছয়টি।
তবে আক্রমণভাগ এখনো প্রত্যাশিত ধার দেখাতে পারেনি ব্রাজিল। চার ম্যাচে তারা গড়ে ১৫টি শট নিয়েছে। যা ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপের এক আসরে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। তবে সুযোগ তৈরির মানের দিক থেকে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স বেশ ইতিবাচক। কম সুযোগ পেলেও তারা তুলনামূলক বেশি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে পেরেছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। এই পর্বে খেলা ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে তারা। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের হার।
অন্যদিকে, আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে নরওয়ে। সেই ম্যাচে ৮৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হলান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক