পরিসংখ্যানে পর্তুগাল আর অভিজ্ঞতায় ক্রোয়েশিয়া, কার হাতে উঠবে শেষ ষোলোর টিকিট?
নকআউট পর্বের মহাবৈতরণী পার হতে এবার মুখোমুখি দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি—পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। তবে এই দ্বৈরথ কেবল পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই নয়, এটি আধুনিক ফুটবলের দুই মহীরুহের ‘শেষের শুরু’ও বটে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদরিচ—চল্লিশের কোঠা পেরিয়ে আসা এই দুই কিংবদন্তির যেকোনো একজনের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। বিদায়ের এই করুণ সুরকে সঙ্গী করেই নকআউট পর্বের গোলখরা কাটানোর নতুন মিশনে নামছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। বিদায়ের আবহ আর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই মিলে এই ম্যাচ রূপ নিয়েছে এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডিতে।
শনিবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় কানাডার টরন্টোতে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস আর সময় টিভি। অনলাইনে দেখা যাবে টফি, বায়োস্কোপ, আই-স্ক্রিণ, মাই রবি আর মাই এয়ারটেল অ্যাপে।
পর্তুগাল তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে ‘কে’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তারা ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করে কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয় দলটি। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে পরের ধাপে যাত্রা নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া ‘এল’ গ্রুপে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হার নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরে শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় জ্লাতকো দালিচের দল।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গ্রুপ পর্বে দুটি গোল করলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো গোল পাননি। আটটি নকআউট ম্যাচে ২৯টি শট নিয়েও তিনি গোলশূন্য থাকা অবস্থায় এবার নবম ম্যাচে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর জন্য নামবেন।
পর্তুগালের মাঝমাঠে বড় ভরসা ভিতিনিয়া। তিনি গ্রুপ পর্বে ২৭০টি সফল পাস দিয়েছেন। যা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৫৪টি পাসের সবকটিই সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও একবার প্রমাণ করেন।
ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অভিজ্ঞতা। লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ, যশকো গভার্দিওল ও ইভান পেরিশিচদের নিয়ে গড়া এই দল বড় ম্যাচে চাপ সামলাতে জানে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে এগিয়ে পর্তুগাল। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে তারা জিতেছে ৭টি, ড্র হয়েছে ২টি এবং ক্রোয়েশিয়া জিতেছে মাত্র ১টি ম্যাচ।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে পর্তুগাল অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার লড়াকু মানসিকতা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এটিকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নকআউট গোল খরা কাটে কি না, সেটিই থাকবে মূল আলোচনায়।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল: দিয়োগো কস্তা; জোয়াও ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস; ভিটিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস; বার্নার্দো সিলভা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রাফায়েল লেয়াও
ক্রোয়েশিয়া: ডমিনিক লিভাকোভিচ; জোসিপ স্টানিসিচ, জস্কো গভার্দিওল, দুয়ে চ্যালেটা-কার, বরনা সোসা; লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাচিচ, মারিও পাসালিচ; ইভান পেরিশিচ, আন্দ্রেয় ক্রামারিচ, আনে বুদিমির

স্পোর্টস ডেস্ক