সেনেগালের হৃদয় ভেঙে শ্বাসরুদ্ধকর জয় বেলজিয়ামের
রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায় ভরপুর এক ম্যাচ, যেনো ১২০ মিনিটের কোনো থ্রিলার মুভি। বেলজিয়াম আর সেনেগালের ম্যাচটি ছিল এমনই। দুইবার আশা ভঙ্গ হলো সেনেগাল সমর্থকদের আর আনন্দের জোয়ার বইয়ে গেল বেলজিয়াম শিবিরে। দুই অর্ধের শুরুতে দু’বার বেলজিয়ামের জালে বল জড়িয়েছিল সেনেগাল। যখন জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। তখন এক বুক হতাশা উপহার দিয়ে তিন মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এরপর যোগ করা সময়ের শেষটা হয় আফ্রিকানদের কান্না দিয়ে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম আর সেনেগাল। ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নির্ধারিত সময়ে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এরপর যোগ করা সময়ের শেষে পেনাল্টি থেকে গোল করে সেনেগালকে হারিয়ে ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইসমাইলা সার বক্সের ভেতর থেকে হেড করেন, বল লাগে গোলবারে। এরপর ২৪তম মিনিটে একই আক্রমণধারায় গোল পায় সেনেগাল। ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে সার প্রথম শট নেন, সেটি প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে খুব কাছ থেকে ডান পায়ে জোরালো শটে গোল করেন হাবিব দিয়ারা। গোলকিপার থিবো কুর্তোয়ার কিছুই করার ছিল না।
প্রথমার্ধের শেষদিকে বেলজিয়াম আক্রমণে উঠলেও বারবার থামিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক মোরি দিয়াও। ৪৫তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে ডি কুইপারের দূরপাল্লার শট দারুণ ডাইভ দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবার আঘাত হানে সেনেগাল। ৫১তম মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ডান দিক দিয়ে দৌড়ে উঠে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন ইসমাইলা সার। তার বুলেট গতির নিচু শট আটকাতে কুর্তোয়া ডাইভ দিলেও বল তার নাগালের বাইরে দিয়ে গিয়ে জালে জড়ায়।
এরপর ম্যাচে ফিরতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। ৬০ থেকে ৮০, এই ২০ মিনিট পর্যন্ত একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। ডি ব্রুইনার লং শট, ট্রসার্ডের নিচু শট এবং ডোকুর কাট-ইন প্রচেষ্টা কয়েকবার সেভ করেন দিয়াও। তার রিফ্লেক্স সেভ ও পজিশনিং সেনেগালকে লিড ধরে রাখতে সাহায্য করে।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ৮৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে ক্রস পেয়ে বক্সের মধ্যে পজিশন নিয়ে হেডে গোল করেন রোমেলু লুকাকু। তার শক্তিশালী হেড গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
এরপর মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে ৮৯তম মিনিটে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে ইয়ুরি টিলেমান্স ডান পায়ে নিখুঁত প্লেসিং শটে গোল করেন। তার কোনাকুনি শট আটকাতে গোলরক্ষক ডাইভ দিলেও বলের নাগাল পাননি। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ছিল। আক্রমণে তেমন ধার ছিল না দুই দলেরই। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়েই ব্যস্ত ছিল বেলজিয়াম-সেনেগাল। ১০৯তম মিনিটে সেনেগাল দারুণ একটি আক্রমণ তোলে, ডান দিক থেকে ক্রস পেয়ে শট নেন ইব্রাহিম এমবায়ে, তবে বল গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
১১৭তম মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম। বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গা পেয়ে ডোদি লুকেবাকিও শক্তিশালী শট নেন, কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ঠিক এই আক্রমণের পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
এরপর ১১৯তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে পেছন দিক থেকে ট্যাকলের শিকার হন ইয়ুরি তিলেমান্স। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও ভিএআর মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি ঘোষণা করেন তিনি। সেনেগালের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
অতিরিক্ত সময়েরও যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (১২০+৫) চাপের মুখে পেনাল্টি নিতে আসেন তিলেমান্স। ডান পায়ের নিখুঁত শটে তিনি বল পাঠান গোলের কোণে। সেনেগালের গোলরক্ষক মোরি দিয়াও সঠিক দিক আন্দাজ করলেও শটের গতি ও নিখুঁত প্লেসমেন্টের কারণে বল আটকাতে পারেননি। এই গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়।

স্পোর্টস ডেস্ক