কঙ্গোর দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেঙে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের কোনো আক্রমণই ভাঙতে পারছিল না কঙ্গোর ডিফেন্সের দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে গোলরক্ষক– একের পর পর এক আটকে দিচ্ছিল থ্রি-লায়ন্সদের আক্রমণ। ম্যাচের ৭৫তম মিনিট পর্যন্ত হতাশায় ঢেকে রেখেছিল ইংল্যান্ডকে। অবশেষে হ্যারি কেইনের জাদুতে ভাঙে সেই প্রাচীর। এরপর ইংল্যান্ড ফেরে স্বরূপে। দ্রুতই আরও একবার কঙ্গোর জালে বল জড়িয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড আর কঙ্গো। দুই দলের জমজমাট লড়াই শেষে কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় কঙ্গো। সপ্তম মিনিটে দ্রুত আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে যান এক কঙ্গো মিডফিল্ডার। সেখান থেকে বক্সে ক্রস গেলে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা ডান পায়ের শটে গোল করেন। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কঙ্গো।
গোল হজমের পর আক্রমণে ধার বাড়ায় ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। ডান দিক দিয়ে সাকা এবং বাম দিক দিয়ে র্যাশফোর্ড বারবার কঙ্গোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও বেলিংহ্যামের পাসিংয়ে গতি পায় আক্রমণ।
তবে ইংল্যান্ডের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপ্সি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বক্সের ভেতর থেকে কেইনের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকান তিনি। এরপর র্যাশফোর্ডের বাঁকানো শট এক হাতে ঠেকিয়ে দেন। কর্নার থেকে আসা হেডও দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দেন এই গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। ইংল্যান্ড আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে, আর কঙ্গোর গোলরক্ষক একের পর এক সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন। বেলিংহ্যামের দূরপাল্লার শট, সাকার নিচু শট, এমনকি কাছ থেকে নেওয়া একটি ভলিও প্রতিহত করেন তিনি।
অবশেষে ৭৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন বুকায়ো সাকা। সেই বল হেডে জালে জড়ান হ্যারি কেইন। গোল করে দলকে স্বস্তি এনে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। এবার যেন তারা স্বরূপে ফেরে। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে জয়সূচক গোলটিও আসে কেইনের পা থেকে। মাঝমাঠ থেকে বেলিংহ্যাম বল বাড়ান ফিল ফোডেনের দিকে। ফোডেন বক্সের সামনে থেকে নিখুঁত পাস দেন কেইনের দিকে। সেখান থেকে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কেইন।
শেষদিকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি কঙ্গো। তবে পুরো ম্যাচে তাদের গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। অসংখ্য নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন তিনি। তার অবদানে মাত্র ২-১ গোলে শেষ হয় ম্যাচ, নইলে ব্যাবধান আরও বাড়তে পারতো।

স্পোর্টস ডেস্ক