কাতারের বিদায় নিশ্চিত করে আশা বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া
লক্ষ্যটা স্পষ্ট ছিল দুই দলের সামনেই—জিতলে আশা বাঁচবে আর হারলে ফিরতে হবে দেশে। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরন করতে পারল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলে এশিয়ার দেশ কাতারকে হারিয়ে শেষ ৩২- এর আশা বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া।
আজ বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মুখোমুখি হয়েছিল কাতার আর বসনিয়া। এ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বসনিয়া।
এ জয়ের পর সমান একটি করে ম্যাচে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট বসনিয়ার। তারা আছে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে কানাডা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সুইজারল্যান্ড। তৃতীয় স্থানে থাকায় সেরা আট ‘তৃতীয় স্থান’ দল হিসেবে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া। আর ১ পয়েন্ট নিয় বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো কাতারের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বসনিয়া। তবে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২৯ মিনিট পর্যন্ত। মধ্যমাঠ থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ইভান বাসিচের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান কেরিম আলাইবেগোভিচ। তার জোরালো শটটি গিয়ে লাগে জালের ওপরের ডান কোণে। দারুণ সেই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
প্রথম গোলের পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে বসনিয়া। ৩৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটান কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। আত্মঘাতী সেই গোল বসনিয়াকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধান।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি কাতার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান দলটির অভিজ্ঞ অধিনায়ক হাসান আল-হাইদোস। ৪২তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। তার গোলে বিরতির আগে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায় কাতার।
দ্বিতীয়ার্ধে কাতার সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বসনিয়ার হাতেই। কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে ৮০তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার মধ্যে ডেনিস হাদজিকাদুনিচের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন এরমিন মাহমিচ। সেই গোলেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া এবং কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসনিয়া। অধিনায়ক এদিন নিজের ১৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, যা জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখল দলটি।

স্পোর্টস ডেস্ক