ষষ্ঠ শিরোপার পথে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়াস
তিনি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। গতি, ড্রিবলিং, গোল আর ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্যে ভিনিসিয়াস জুনিয়র এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। কিন্তু ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে চাপালেই যেন বদলে যায় চিত্রটা।
ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সাফল্যের বিপরীতে জাতীয় দলের হয়ে এখনো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এই উইঙ্গার। আর তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করছে তার পায়ের জাদুতে।
গত কয়েক বছরে ভিনিসিয়াস নিজেকে রিয়াল মাদ্রিদের অপরিহার্য খেলোয়াড়ে পরিণত করেছেন। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারও ছিলেন তিনি। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সেই স্বপ্নেও প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে কোপা আমেরিকায় প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা তার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
পরিসংখ্যানও ভিনিসিয়াসের সংগ্রামের কথাই বলে। ব্রাজিলের হয়ে প্রায় অর্ধশত ম্যাচ খেলেও গোলসংখ্যা এখনো এক অঙ্কে। এর বেশির ভাগই এসেছে প্রীতি ম্যাচে। বড় টুর্নামেন্টে তার প্রভাব খুবই সীমিত। অনেক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে হারিয়ে গেছেন, আবার কখনো হলুদ কার্ডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও মিস করেছেন। ফলে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ বারবার হাতছাড়া হয়েছে।
অবশ্য এর পেছনে কৌশলগত কারণও রয়েছে। নেইমারের দীর্ঘদিনের চোটের কারণে ব্রাজিলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন ভিনিসিয়াসের কাঁধে। প্রতিপক্ষও সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজায়। একাধিক খেলোয়াড় মিলে তাকে ঘিরে রাখে, বল পেলেই চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ক্লাব ফুটবলে যে স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারেন। জাতীয় দলে সেই সুযোগ খুব কমই পান।
একসময় ব্রাজিল দলে একসঙ্গে খেলতেন রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, কাকা কিংবা আদ্রিয়ানোর মতো তারকারা। একজনকে থামালেও অন্য কেউ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন। এখন সেই গভীরতা আর নেই। বয়স ও চোটের কারণে নেইমারও আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য নন। তাই ব্রাজিলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়াসই।
তবে ভিনিসিয়াস একা নন। রাফিনিয়া দারুণ ছন্দে আছেন। তরুণ এন্দ্রিক ও এস্তেভাওকে ঘিরেও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল। চোট কাটিয়ে ফিরলে রদ্রিগোও হতে পারেন বড় অস্ত্র। তবুও বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে এমন একজন ফুটবলার দরকার, যিনি কঠিন মুহূর্তে একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। সেই ভূমিকায় সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে ভিনিসিয়াসের নাম।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাকাও বিশ্বাস করেন, ক্লাবের সাফল্য দিয়েই ভিনিসিয়াসকে বিচার করা উচিত নয়। তার মতে, রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপা না জিতলেও ভিনিসিয়াস ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। এখন সেই পারফরম্যান্স জাতীয় দলের জার্সিতেও ধরে রাখতে পারলেই বদলে যেতে পারে সব হিসাব।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস গৌরবময়। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার নামছে ষষ্ঠ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিতে হবে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকেই। কারণ, এই বিশ্বকাপ শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, ভিনিসিয়াসের ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক