৫০ বছর ধরে বিশ্বকাপ ট্রফির কারিগর যে পরিবার!
১৯৪৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হতো ‘জুলে রিমে ট্রফি’। কিন্তু ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেই ট্রফিটি স্থায়ীভাবে তাদের দিয়ে দেয় ফিফা। এরপর নতুন ট্রফির প্রয়োজন পড়ে। তখন ৫৩টি দেশের নকশা থেকে ইতালিয়ান শিল্পী সিলভিও গাজানিগার করা নকশাটি চূড়ান্ত করে ফিফা।
ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট (৭৫%) নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার (১৪.৫ ইঞ্চি) এবং ওজন ৬.১৭৫ কেজি। বর্তমানে এই সোনালী ট্রফির মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২০ কোটি টাকারও বেশি। ট্রফিটির নিচে রাখা আছে দুই স্তর বিশিষ্ট দামি সবুজ ম্যালাকাইট পাথর।
সিলভিও গাজানিগার মৃত্যুর পর এখন তার ছেলে জর্জিও গাজানিগা এই লিগ্যাসি ধরে রেখেছেন। তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বার্তোনি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ আজও ট্রফিটির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। ট্রফির নিচে যখনই নতুন চ্যাম্পিয়ন দেশের নাম লিখতে হয় বা কোনো মেরামতের প্রয়োজন পড়ে, তখনই এটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইতালির এই কারখানায়।
ভাস্কর সিলভিও গাজানিগা বেঁচে থাকতে বলেছিলেন, তিনি কোনো সাধারণ ‘কাপ’ বানাতে চাননি; বরং ট্রফিটিকে এমন রূপ দিয়েছিলেন যেন তা কোনো বীরের শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ফিফার ট্রফি নকশা করে তিনি সরাসরি আর্থিক মুনাফা খুব একটা না পেলেও খ্যাতি পেয়েছিলেন বিশ্বজোড়া। ইউরোপিয়ান সুপার কাপসহ আরও অনেক বিখ্যাত ট্রফিও তার নকশা করা।
মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা ৩২টি দেশ যখন এই শিরোপার জন্য ঘাম ঝরায়, তখন ইতালির সেই কারখানাটি হয়ে ওঠে ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরেও যখন চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন, তখন তার নেপথ্যে জড়িয়ে থাকবে গাজানিগা পরিবারের সেই নিপুণ হাতের ছোঁয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক