কার হাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি দেখতে চান জামাল ভূঁইয়া?
চলতি বছর পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। এর আগে ভ্রমণে বেরিয়েছে বিশ্বকাপের ট্রফি। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছে বিশ্বকাপের আসল ট্রফি।
সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হয়েছে ট্রফি উন্মোচন। ট্রফির উন্মোচন করেন ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। সেখানে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও।
বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আসন্ন বিশ্বকাপের শিরোপা দেখতে চান কোন দেশের হাতে? উত্তরে একাধিক দেশের নাম বলেছেন জামাল।
জামাল ভূঁইয়ার জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ডেনমার্কে। দেশটির হয়ে খেলার সম্ভাবনাও ছিল তার। তবে লাল-সবুজের টানে তা উপেক্ষা করেছেন। গায়ে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের জার্সি।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ডেনমার্ক। জামালের আশা বিশ্বকাপের ট্রফি উঠুক ডেনমার্কের হাতে। জামাল বলেন, ‘আমি চাই ডেনমার্ক বিশ্বকাপ জিতুক, কারণ সেখানে আমার জন্ম।’
সেই আশা অবশ্য খুবই ক্ষীণ। কারণ শক্তির বিচারে ডেনমার্কের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা মিরাকল না হলে সম্ভব নয়। সেটি না হলে জামাল বিশ্বকাপ দেখতে চান প্রিয় দল ব্রাজিলের হাতে। তিনি বলেন, ‘যদি ডেনমার্ক শিরোপা জিততে না পারে, তাহলে অবশ্যই আমি চাই ব্রাজিলের হাতে ট্রফি উঠুক।’
এর আগেও কয়েকবার প্রকাশ্যেই জামাল জানিয়েছেন তার পছন্দের দল ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকেই সেলেসাওদের ফুটবলের প্রেমে পেড়েছেন তিনি। এদিন স্মৃতি চারণ করলেন ব্রাজিলেল ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের।
জামাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি ব্রাজিলকে অনুসরণ করি। আমার প্রথম প্রিয় ফুটবলার ছিলেন রোনালদো। ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দল আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছিল। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। সেই দলে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোর পাশাপাশি আজকের এই গিলবার্তো সিলভাও ছিলেন।’
গত বছর থেকে নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে দেশের ফুটবলে। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের আগমণে পূণর্জন্ম হয়েছে দেশের ফুটবলে। অনেক আশা এখন দেশের ফুটবল নিয়ে। সেই আশা তৈরি হলেও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা জামালের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
নিজের ক্যারিয়ারে না হলেও জামালের স্বপ্ন নতুন প্রজন্ম বিশ্বকাপে একটা অধ্যায় লিখুক। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ট্রফি আসছে বাংলাদেশে। আশা করি, আমাদের ফুটবলার যারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, এটা তাদের জন্য অনুপ্রেরণার হোক। আমি মনে করি, যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের জন্য এই ট্রফি আরও অনুপ্রেরণার হবে। এই ট্রফি…আমি মনে করি, নতুন প্রজন্ম বিশ্বকাপে একটা অধ্যায় লিখতে পারে।’

স্পোর্টস ডেস্ক