উৎসবের রং আর বিদায়ের রাগিণীতে অ্যাশেজ উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার
প্রথম তিন টেস্ট জিতেই অ্যাশেজের ট্রফি ঘরে তোলার কাজটা সেরে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মাঝে বক্সিং ডে টেস্টে হারলেও শেষটা আবারও রাঙালেন অসিরা। ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে উল্লাসে মেতে উঠল পুরো দল। সঙ্গে যোগ দিলেন চোটে পড়া দুই ক্রিকেটার প্যাট কামিন্স আর নাথান লায়ন। বেশ খানিকখন চলল এই উদযাপন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিডনি টেস্টের শেষ দিনে ৫ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের ফলে এবারের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারাল অসিরা।
এতো এতো উদযাপনের মাঝে অবশ্য ছিল বিদায়ের রাগিনীও। ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্টের ইতি টানলেন উসমান খাজা। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে শেষবার মাঠে নেমে শেষ ইনিংসে ভালো করতে না পারলেও দর্শকদের ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না।
সিডনি টেস্টেও ইংলিশ ব্যাটাররা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেননি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনেই। ইংলিশদের আশার বাতিঘর হয়ে ছিলেন জ্যাকব বেথেল। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ১৫০ তে রূপান্তর করে আর বেশি দূর এগোতে পারেননি। তার সঙ্গে থেমেছে ইংল্যান্ডের লড়াইও।
জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ১৬০ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে পাঁচ উইকেট হারিয়েছে অসিরা। তবে সেটি জয়ের উল্লাসের জন্য তর সইছিল না সে কারণেই বোধ হয়। কারণ পুরো ইনিংসেই ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
রান তাড়ায় নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৬২ রান তুলে ফেলেন ট্রাভিস হেড আর জ্যাক ওয়েদেরল্ড। ৩৫ বলে ২৯ রান করা হেড ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর একই ধারায় খেলতে গিয়ে ফেরেন ওয়েদেরল্ডও। তার ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৩৪ রান।
তিনে নামা মার্নাস লাবুশেনও হেঁটেছেন একই পথে। তিনিও দ্রুত জয়ের খোঁজে ব্যাট চালান ওয়ানডে স্টাইলে। ৪০ বলে ৩৭ রানে কাটা পড়েন লাবুশেন। এরপর দ্রুতই বিদায় নেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ (১২ বলে ১২ রান) আর উসমান খাজা (৭ বলে ৬ রান)।
এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অ্যালেক্স ক্যারি আর ক্যামেরন গ্রিন। জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলেন এই দুজন। ২৭ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারি আর গ্রিন ২৭ বলে ২২ রানে।
এর আগে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু এদিন আর বেশি দূর যেতে পারেনি ইংল্যান্ড। মিচেল স্টার্কের তোপে দ্রুতই শেষ হয়ে যায় ইংলিশদের লড়াই।
দারুণ খেলতে থাকা বেথেল ১৪২ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন। এদিন তার ব্যাট থেকে এসেছে আর ১২ রান। এরপর স্টার্কের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। শেষ ব্যাটসম্যান জস টংয়ের স্থায়িত্ব ছিল ১৪ বল। ৬ রান করে তিনিও শিকার হন স্টার্কের।
এবারের পুরো অ্যাশেজ জুড়েই দাপট ছিল বোলারদের। দুটি টেস্ট তো শেষ হয়েছে দুই দিনেই। এমন দাপটের মাঝেও ব্যাটহাতে অনবদ্য ছিলেন ট্রাভিস হেড। ৬২.৯০ গড় আর ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেছেন তিনি। সিরিজে চারশর বেশি রান নেই আর কারো।
অসাধারণ গতির ঝলক দেখিয়েছেন মিচেল স্টার্কও। পুরো সিরিজে তার শিকার ৩১ উইকেটে। এর আগে কখনোই এক সিরিজে ২৫ উইকেটের বেশি পাননি তিনি। এই সিরিজেও ২২ উইকেটের বেশি নেই আর কোনো বোলারের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ৯৭.৩ ওভারে ৩৮৪/১০
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ১৩৩.৫ ওভারে ৫৬৭/১০
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস : ৮৮.২ ওভারে ৩৪২/১০
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস : ৩১.২ ওভারে ১৬১/৫ (হেড ২৯, ওয়েদেরল্ড ৪০, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ১২, খাওয়াজা ৬, কেয়ারি ১৬*, গ্রিন ২২*; কার্স ৮-০-৫১-০, টং ১১-০-৪২-৩, বেথেল ৩-০-১৬-০, জ্যাকস ৬.২-১-৪২-১, রুট ৩-১-৬-০)।
ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : ৫ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ : ট্রাভিস হেড।
ম্যাচ অব দা সিরিজ : মিচেল স্টার্ক।

স্পোর্টস ডেস্ক