নাসির ঝড়ে উড়ে গেল নোয়াখালী
বাকিদের ব্যর্থতায় ধংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন মোহাম্মদ নবী ও হায়দার আলী। এতে লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। স্বল্প রানে ঢাকা ক্যাপিটালসকে আটকে রাখার মিশনে শুরুটা খারাপ ছিল না নোয়াখালীর। কিন্তু নাসির হোসেনের ঝড়ে সেটি বেশিক্ষণ টিকেনি। নোয়াখালীকে টানা পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করেছে নোয়াখালী। জবাব দিতে নেমে ১৪১. ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ঢাকা।
অল্প পুঁজিতে ঢাকাকে আটকে রাখার মিশনে শুরু আশা জাগিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে। নিজের পরের ওভারে এসে ফেরান আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ আল মামুনকে (৬ বলে ১)।
নোয়াখালীর লড়াই ছিল স্রেফ এতটুকুই! তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন নাসির হোসেন। শুরু থেকেই ডিফেন্সের পরিবর্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিতে এসে ইরফান শুক্কুর ১১ বলে ১২ রানে ফিরে গেলেও কোনো সমস্যা হয়নি ঢাকার।
ব্যাটিং ঝড় চলমান রাখেন নাসির। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন ইমাদ ওয়াসিমও। তাকে সঙ্গে নিয়ে হাফসেঞ্চুরি পেরিয়ে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তেই চলে গিয়েছিলেন নাসির। নোয়াখালী আর কিছু রান করলে হয়তো সেটিও পূরণ করে নিতে পারতেন এক সময় জাতীয় দলে খেলা এই অলরাউন্ডার।
তবে দলকে জেতানোয় সেই আক্ষেপ হয়ত কিছুটা কমবে নাসির হোসেনের। দুই জনের ঝড়ে ১৪.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে নোঙড় করে ঢাকা ক্যাপিটালস। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯০ রানে অপরাজিত থাকেন নাসির। অন্যদিকে, ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ ওয়াসিম।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে শুরু করেছিলেন নোয়াখালীর দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর হাবিবুর রহমান সোহান। কিন্তু বিপদ কাটাতে পারেননি তারা।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ৬ বলে ১ রান করে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। তিন বলের ব্যবধানে ফেরেন আরেক ওপেনার সোহানও (১৩ বলে ৬)।
তিন নম্বরে নেমে মাজ সাদাকাত দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুতই ফিরে যান মুনিম শাহরিয়ার (৬ বলে ২) আর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৯ বলে ৪)।
ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি মাজ সাদাকাত। ১৯ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। এতে ৯.৩ ওভারে দলীয় রান পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধংসস্তূপের নিচে পরে যায় নোয়াখালী।
এরপর সেই ধংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক হায়দার আলী আর অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী। পরে ১০ ওভার উইকেটে কাটিয়ে দেন এই দুজন। ইনিংস শেষ হওয়ার ৩ বল আগে আউট হন হায়দার। ৩৬ বলে ৪৭ রান করেন তিনি।
তবে অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন নবী। ৩২ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস : ২০ ওভারে ১৩৩/৬ (সোহান ৬, সৌম্য ১, সাদাকাত ২৪, মুনিম ২, মাহিদুল ৪, হায়দার ৪৭, নবী ৪০*, আবু হাশিম ০*; ইমাদ ৪-০-১৬-১, তাসকিন ৪-০-২৮-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-৩০-১, জিয়াউর ৪-১-২৬-২, নাসির ৩-০-২৪-১, আবদুল্লাহ আল মামুন ১-০-৬-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস : ১৪.১ ওভারে ১৩৪/৩ (গুরবাজ ০, আবদুল্লাহ আল মামুন ১, ইরফান ১২, নাসির ৯০*, ইমাদ ২৯*; হাসান ৩-০-১৭-২, নবী ৩-০-৩১-০, সাদাকাত ১-০-১৮-০, রেজাউর ২.১-০-২৭-০, আবু হাসিম ২-০-৮-০, জাহির ৩-০-৩২-১)

স্পোর্টস ডেস্ক