সুপার ওভারের থ্রিলারে ‘এক রানের’ হার বাংলাদেশের
তীরে এসে আবারও ডুবল তরী। সুপার ওভারে ১১ রানের লক্ষ্য টপকাতে পারল না বাংলাদেশ। এক ওভারে দুই ওয়াইড ও এক নো বলে মোট ৯ বল পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সুপার ওভারে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ২১৩ রান। জবাবে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজও থামে ২১৩ রানে। সুপার ওভারে ১ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১০ রান করে উইন্ডিজরা। ১ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ থামে ৯ রানে।
রান তাড়ায় শুরু থেকে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারেই হারায় ব্র্যান্ডন কিংয়ের উইকেট। নাসুম আহমেদের স্পিনে কিং লেগবিফোর হন রানের খাতা খোলার আগে। আরেক ওপেনার অ্যালিক আথানেজকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ হোসেন। আথানেজের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।
৫৯ বলে ৩৫ রান করে বাংলাদেশের জন্য বিপদ হয়ে ওঠা কিচি কার্টিকেও লেগবিফোর করেন রিশাদ। আকিম অগাস্টেকে ১৭ রানে বিদায় করেন তানভীর ইসলাম। স্কয়ার লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন রিশাদ। ৯০ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে শেরফান রাদারফোর্ডকে সাজঘরের পথ দেখান তানভীর। গুরাকেশ মোতিকে রিশাদ বোল্ড করলে এবং রোস্টন চেজকে নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ বানিয়ে নাসুম ফেরালে ১৩৩ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয় ক্যারিবীয়রা।
সেখান থেকে যখন মনে হচ্ছিল, আরেকটি জয় হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশকে, তখনই বাগড়া দেন সফরকারী অধিনায়ক শাই হোপ। এক প্রান্ত আগলে পড়ে থাকেন ক্রিজে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৭ বলে ৫৩ রানে। অষ্টম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়ে সম্ভাবনা জাগান। ২৬ রান করে গ্রিভস রানআউট হলে জমে ওঠে ম্যাচ।
শেষ ওভারে ৫ রান প্রয়োজন হয় উইন্ডিজদের, হাতে দুই উইকেট। সাইফ হাসান ডট দেন প্রথম দুই বল। পরের দুই বলে সিঙ্গেলস বের করে ক্যারিবীয়রা। পঞ্চম বলে আকিল হোসেনকে বোল্ড করেন সাইফ। এক বলে প্রয়োজন হয় তিন রান। সাইফের বলে খারি পিয়েরে বল তুলে দেন আকাশে। দৌড়ে গিয়েও সোহান তালুবন্দি করতে পারেননি। দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।
বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম সুপার ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান হজম করেন ১০ রান। ১১ রানের লক্ষ্যে নেমে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার সুযোগ পেয়েছেন। ওয়াইড ও নো-তে ওভারে বল সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টি। তবু পারল না বাংলাদেশ। আকিলের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে মোতির হাতে ধরা পড়েন। শেষ দুই বলে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাইফ মিলে পারেনি জয় আনতে। এক রানে হারে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেটে থিতু হতে না হতেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার সাইফ হাসান। টানা ১৪ বল ডট খেলে পঞ্চম ওভারে আকিল হোসেনের বলে স্লগ খেলে ছক্কা মেরে চাপমুক্ত হতে চেয়েছিলেন তিনি। পরের বলেই স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ। ১৬ বলে ৬ রান করেন সাইফ।
ওয়ানডাউনে নেমে ১১তম ওভারেই গুড়াকেশ মোতির ফাঁদে পড়েন হৃদয়। মোতির হাওয়ায় ভাসিয়ে করা বল হৃদয় মিড অনে থাকা ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে মারতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় পয়েন্টে থাকা আকিলের হাতে। এতেই ১৯ বলে ১২ রান করে ফেরেন হৃদয়।
নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে সৌম্য সরকার এগোচ্ছিলেন। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। অ্যালিক আথানাজের বলে ব্রেন্ডন কিংয়ের তালুবন্দি হয়ে শান্ত ফেরেন ২৫ বলে ১০ রানে। ৬৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শান্তর বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সৌম্য। বিদায় নেন অঙ্কনও। ৩৫ বলে ১৭ রান করে আথানাজের বলে শেরফান রাদারফোর্ডের হাতে ধরা পড়েন স্কয়ার লেগে। আকিলের বলে খারি পিয়েরের হাতে ক্যাচ তুলে সৌম্যও বিদায় নেন ৮৯ বলে ৪৫ রানে।
মাঝে মোতির শিকার হয়ে ২৬ বলে ১৪ রান করে ফেরেন নাসুম আহমেদ। মন্থর ব্যাটিংয়ে যারপরনাই হতাশ করা বাংলাদেশের রানের চাকায় গতি আনেন নুরুল হাসান সোহান। দুই চার ও এক ছয়ে ২৪ বলে ২৩ রান করে মোতিকে ফিরতি ক্যাচ দেন সোহান। ব্যাট হাতে এদিনও জ্বলে ওঠেন রিশাদ হোসেন।
ক্যারিবীয় বোলারদের এলোমেলো করেন চার-ছক্কার ঝড় তুলে। সমান তিনটি করে চার ও তিনটি ছক্কায় ১৪ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন রিশাদ। অধিনায়ক মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫৮ বলে ৩২ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে মোতি নেন তিন উইকেট। আতানাজে ও আকিল পান দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২১৩/৭ (সাইফ ৬, সৌম্য ৪৫, হৃদয় ১২, শান্ত ১৫, মাহিদুল ১৭, নাসুম ১৪, সোহান ২৩, মিরাজ ৩২*, রিশাদ ৩৯*; আকিল ১০-১-৪১-২, চেজ ১০-২-৪৪-০, পিয়েরে ১০-০-৪৩-০, মটি ১০-০-৬৫-৩, আথানেজ ১০-৩-১৪-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৫০ ওভারে ২১৩/৯ (আথানেজ ২৮, কিং ০, কার্টি ৩৫, আগুস্ত ১৭, রাদারফোর্ড ৭, মোটি ১৫, চেজ ৫, গ্রেভস ২৬, আকিল ১৬, পিয়েরে ২*,হোপ ৫৩*; নাসুম ১০-০-৩৮-২, তানভীর ১০-০-৪২-২, রিশাদ ১০-০-৪২-৩, সাইফ ২-০-৯-১, মিরাজ ১০-১-৩৮-০, মুস্তাফিজ ৮-০-৪০-০)
সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১ ওভারে ১০/১ (হোপ ৭*, রাদারফোর্ড ৩, কিং ০*; মুস্তাফিজ ১-০-১০-১)
সুপার ওভারে বাংলাদেশ : ১ ওভারে ৯/১ (সৌম্য ৩, সাইফ ২*, শান্ত ০*; আকিল ১-০-৮-১)
ফলাফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার ওভারে জয়ী।

ক্রীড়া প্রতিবেদক