কলার খোসা কী ত্বকের জন্য উপকারী?
অনেকেরই ত্বকের ওপর লালচে দাগ হয়, যাতে চুলকানি হয় এবং ধীরে ধীরে সমস্যাটি ত্বকের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ইংরেজিতে একে বলা হয় সরিয়াসিস। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তির এই সমস্যা হতে পারে। শরীরের যেকোনো স্থানে যেমন পিঠ, ঘাড়, পা এমনকি মুখেও এই দাগ হতে পারে। যদিও ত্বকের এই রোগ ছোঁয়াচে নয়, ত্বকের ওপর বড় লালচে দাগগুলো আপনার জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে পড়ে।
কলার খোসা আপাতত দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও সরিয়াসিস দূর করতে খুবই উপকারী। কারণ কলার খোসায় প্রচুর মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকে যা ত্বককে বাহ্যিক ক্ষতি যেমন সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করে। তা ছাড়া এতে ‘এস্টারিফাইড ফ্যাটি এসিড’ আছে যা একজিমা ও সরিয়াসিসের মতো ত্বকের সমস্যা দূর করতে পারে। কীভাবে কলার খোসা ব্যবহারে ত্বকের এই সমস্যা দূর করতে পারেন এই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নারীভিত্তিক অনলাইন সাইট স্টাইল ক্রেজ ডটকমে।
কলা ও আলকাতরা পেস্ট
শুনতে প্রথমে অবাক হলেও প্যাকটি ত্বকের এই সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকর। কলার খোসা ছোট ছোট করে কেটে ব্লেন্ডারে কয়েক মিনিট ধরে ব্লেন্ড করে নিন। তারপর এতে আলকাতরা মেশান। পেস্টটি আপনার আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। ত্বকের এই চিকিৎসার ওপর বিশ্বাস আনতে বলে রাখা ভালো যে, ‘জার্নাল অব ডারমাটোলোজিক্যাল ট্রিটমেন্ট’ একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কলার খোসা ও আলকাতরা ত্বকের সরিয়াসিস অর্থাৎ লালচে দাগ এবং জ্বালাদায়ক চুলকানি দূর করতে কার্যকরী।
শুধুই কলার খোসা
কয়েকটি কলার খোসা ছোট করে কেটে নিন। খোসার ভেতরের অংশ আক্রান্ত স্থানের ওপর আলতোভাবে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না খোসা বাদামি হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। তবে আপনি চাইলে সারারাতও রাখতে পারেন। এতে খোসার রস থেকে পুরো ভিটামিন ত্বক শোষণ করে নিতে পারবে। ৩০ মিনিট পর বা সকালবেলা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি দিনে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন।
কলার খোসা খান
যদি আপনি খুব বেশি খুতখুতে প্রকৃতির না হয় তাহলে কলার খোসা খেতে পারেন। এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী। ফলের সাথে কিংবা শুধু খোসা যেভাবে ইচ্ছে প্রতিদিন খেতে পারেন।

সিফাত জাহান সিফা