আরিফিন শুভর নায়িকা হচ্ছেন কেয়া পায়েল
বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’র সাফল্যের পর দারুণ সময় পার করছেন আরিফিন শুভ। ভারতীয় এই সিরিজটি শুধু দেশটির দর্শকদের কাছেই নয়, বাংলাদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। চিরচেনা ইমেজের বাইরে গিয়ে নতুন লুক, পরিমিত অভিনয় ও সংলাপ বলার ভিন্নধর্মী ভঙ্গিতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। সেই প্রশংসার প্রতিফলন মিলেছে ভারতীয় প্রথম সারির বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিভিউতেও, যেখানে শুভর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল ঈদে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত অ্যাকশন সিনেমা ‘মালিক’। মুক্তির পর সিনেমাটি ঈদের আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর অ্যাকশন ঘরানায় ফেরা শুভকে দর্শকরাও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
এরপরই অস্ট্রেলিয়ায় উড়াল দেন এই অভিনেতা। প্রায় দুই সপ্তাহ পর দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে নতুন কয়েকটি সিনেমার গল্প শুনলেও, এর মধ্যে কোনটি দিয়ে তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
এরই মধ্যে এসেছে আরিফিন শুভর নতুন খবর। প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন ছোট পর্দার তারকা কেয়া পায়েলের সঙ্গে। জাহিদ প্রীতম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সিনেমায় দেখা যাবে তাদের। এই ফিল্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে কাজ করছেন আরিফিন শুভ। চরকির মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টের ব্যানারে এটি প্রযোজনা করছে ছবিয়াল।
সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকে এ কনটেন্টে এক সুতোয় বাঁধা হয়েছে বলে জানান নির্মাতা। জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবেন, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মে আরিফিন শুভ অভিনয় করছেন আনিস চরিত্রে। আরিফিন শুভকে সচরাচর অ্যাকশন লুকে বা আলফা মেইল হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু ’হ্যাপিলি ম্যারিড’ ফিল্মে তাকে দেখা যাবে সিগমা মেইল (স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল ও একাকী জীবনযাপন করা পুরুষ) চরিত্রে।
আরিফিন শুভ বলেন, ‘উনিশ২০–এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম–কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন না এটা।’ আরিফিন শুভ আরও জানান, তার চরিত্রটি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের, যার পুরো পৃথিবী জুড়েই রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।’
ফিল্মটির মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এ যুগের এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের এক প্রান্তে সহজ-সরল, সৎ যুবক আনিস, অন্যদিকে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির চাদরে মোড়ানো তরুণী অনামিকা– এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। তার চরিত্রটি আবর্তিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি এবং ভার্চুয়াল জগতের মোহনীয় রঙিন স্বপ্নকে ঘিরে।

বিনোদন ডেস্ক