শীত এলেই নস্টালজিক হয়ে যান মাধবী মুখোপাধ্যায়
‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা?’ কবির কলমের সেই কথার রেশ ধরে শীতের প্রত্যাশায় দিন গুনতে গুনতে আজ শীত দুয়ারে এসে হাজির। শীত মানেই দেদার মজা। শীত মানেই কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া। শীত মানেই হরেক রকমের মেলা। শীত মানেই বনভোজন আর ইতিউতি ঘোরার সময়। প্রিয় শীতকে নিয়ে আপামোর বাঙালির আদুরেপনার যেন কোনো শেষ নেই। সেই শীত মৌসুম নিয়ে অতীত দিনের শীত সোহাগী সেলেবদের মধ্যে অন্যতম যিনি, তিনি বাঙালির কাছে আজও চারুলতা বলে পরিচিত।
মাধবী কাননের রঙের ছটায় বারবার সেজে উঠেছে বাংলা ছবির জগত। বয়সের ভারে আজ অনেকটা নুইয়ে পড়লেও মনের আঙিনায় তিনি যেন আজও সদ্য ফোটা মাধবী। হ্যাঁ, তিনি কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। যিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারবার নিজেকে বদলে নিয়ে দর্শকদের কাছের মানুষ হয়ে রয়েছেন।
সময়ের সঙ্গে পা মেলাতে অভ্যস্ত এই অভিনেত্রী শীতের অপেক্ষায় আজও সবার মতোই দিন গোনেন। শীতকে বরণ করে নিতে আজও দুই বাহু বাড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত নন তিনি। বয়স হয়েছে বলে শীতে কাবু হতে চান না মোটেই। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেই জানালেন, ‘এ বছর শীত পড়ছিল না বলে তো রীতিমতো চিন্তা হচ্ছিল। ভাবছিলাম সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গে কী শীতটাও বদলে যাচ্ছে!’
শীতকালটা বেশ উপভোগ করেন প্রবীণ এই অভিনেত্রী। নিজের মুখেই জানালেন, ‘শীতের সময় কত রকমের খাবার-দাবার। বিশেষ করে শীতের সময় বাঙালির চিরাচরিত পিঠে, পুলি, নলেন গুড় খাওয়া তো আছেই। তবে বাঙালির পিঠে, পুলি, নলেন গুড়ের সন্দেশ-টন্দেশ খাওয়া ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এখনকার প্রজন্মের কাছে পিঠে মানেই তো কেক হয়ে গেছে।’ অন্তত এমনটাই মনে করেন মাধবী মুখোপাধ্যায়।
তবে মাধবী নিজে আজও শীত এলে পিঠে-পায়েস খাওয়ার সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিকে মোটেই ভুলতে পারেন না। মজা করেই বললেন, ‘এই বয়সে যেসব জিনিস খাওয়া বারণ সেসবই বেশি করে খেতে ইচ্ছে করে। এখন তো সুগার হয়ে গেছে। তাই আর মিষ্টি খেতে পারি না। কিন্ত শীতকালে কলকাতার বাইরে গিয়ে সকালে উঠে খেজুরের রসের সেই স্বাদ কি আর ভোলা যায়!তা ছাড়া পিঠে-পায়েস তো কতই না রয়েছে। রয়েছে এই সময় নানা সবজিও।’
শীত এলে খাবার-দাবারের পাশাপাশি বইমেলার একটা অদ্ভুত গন্ধ আজও মনকে যেন ভালো করে দিয়ে যায় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের। দুই-তিন বছর আগে নিজে একটা বই লিখেছিলেন। সেটি বেরও হয়েছে- নাম ‘মাধবী কানন’। সব মিলিয়ে শীত এলে পুরোনো দিনের স্মৃতিকে আঁকড়ে আজও অনেকটাই নস্টালজিক হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। তবে শীত এলে সকালবেলায় সমস্যা একটাই। বললেন, ‘সকালবেলা কিছুতেই বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না।’

মনোজ বসু, কলকাতা