বাবা ছিলেন ফেলুদা, ছেলে হলেন ব্যোমকেশ
‘মা বলে দিয়েছেন, নিজের ব্যবস্থা নিজে যেদিন করতে পারব, সেদিনই যেন বিয়ে করি। তাই এই মুহূর্তে বিয়ে করা আমার পক্ষে বেশ চাপের। তাই দুই বছর পর বিয়ে নিয়ে ভাবব।’ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবেই কথা বললেন টলিউড অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তী।
বাবা টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। বাবার বদান্যতায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা করে সুবিধা কিছু না পেলেও বাবার কারণেই যে অন্তত পরিচালকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়নি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন গৌরব। ছোটবেলা থেকে জীবনে অনেক কিছু হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর মধ্যে। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছাও জেগেছিল একসময়। কিন্তু বাড়িতে সিনেমার পরিবেশ থাকায় একসময় ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করার আগ্রহটাই শেষমেশ চেপে বসে।
আজ ছোটপর্দার ব্যোমকেশ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন গৌরব। তবে টিভিতে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকও যে তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল সে কথাও ভুলতে চান না তিনি। টেলিভিশনে ব্যোমকেশ হিট। এবার বড়পর্দায় ব্যোমকেশ করার ইচ্ছেও রয়েছে গৌরবের। জানালেন, আমার এখন যা বয়স, তাতে কয়েক বছর পর বড়পর্দায় ব্যোমকেশ চরিত্রে অনায়াসেই অভিনয় করতে পারব। ছোটপর্দায় ব্যোমকেশের সাফল্যের পর গৌরবের আশা, এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি আরো কাজ পাবেন আগামী দিনে।
তবে টিভিতে মেগা ধারাবাহিকে খুব একটা কাজ করার ইচ্ছে নেই তাঁর। জানালেন, ‘টেলিফিল্ম করতে পারি। ভালো ছবির জন্য অপেক্ষা করতে পারি। তবে মেগা ধারাবাহিকে আর্থিক লাভের কথা ভেবে এখনই আমাকে টাকা রোজগার করে বাড়িতে দিতে হবে এমনটা নয়। আমি চাই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে।’ এই বয়সে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করার পর আগামী দিনে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে রয়েছে গৌরবের। তবে ফেলুদা হিসেবে বাবা সব্যসাচীকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ গৌরবের। জানালেন, ‘ফেলুদা চরিত্রে অনেকেই অভিনয় করেছেন, তাই কাউকে দুঃখ না দিয়ে বলতে চাই, ফেলুদা হিসেবে বাবা ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনা করতে পারি না। ফেলুদা চরিত্রে বাবার মতো অভিনয় আর কারো মধ্যে দেখিনি। বাবা ফেলুদা ছেড়ে দেওয়ার পর আমার খুব খারাপ লেগেছিল।’
আজ অভিনয়জগতে অনেকটাই সাফল্য পাওয়া সত্ত্বেও গৌরব মনে করেন, সাফল্য পাওয়া সহজ, কিন্তু সেটি ধরে রাখা অনেক কঠিন। পাশাপাশি ভালো অভিনয় করলেই যে সব ছবি হিট হয় এমনটাও মনে করেন না গৌরব। বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তী বরাবর বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী। বাড়িতেও সিনেমার পাশাপাশি বামপন্থার একটা পরিবেশ ছোট থেকেই পেয়ে এসেছেন। ফলে নিজের মধ্যেও যে একটা মতাদর্শ গড়ে উঠেছে সে কথা রাখঢাক না করে জানালেন, ‘আমার মধ্যে যে মতাদর্শই গড়ে উঠুক না কেন, তা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কেরিয়ার থেকে রাজনীতিকে আমি দূরে রাখতে চাই।’
অভিনেত্রী ঋদ্ধিমার সঙ্গে সেই ‘রংমিলান্তি’ ছবি করা থেকে পরিচয়। তারপর অনেকগুলো কাজ করেছেন ঋদ্ধিমার সঙ্গে। চাপা একটা গুঞ্জনও রয়েছে ঋদ্ধিমাকে নিয়ে। সেই প্রসঙ্গে গৌরবের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘ঘটনাচক্রেই ঋদ্ধিমার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা। তাই বলে অন্য কোনো নায়িকার সঙ্গে কাজ করব না এমনটা নয়। আর ঋদ্ধিমাকে কাস্ট করার জন্য কখনো পরিচালকদের চাপ দেব এমনটা মনে করারও কোনো কারণ নেই। আর সেটা যদি কখনো করি, তাহলে প্রথম কানমলাটা আমার বাবা-মাই আমাকে দেবেন।’

মনোজ বসু, কলকাতা