জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠা বলিউড দম্পতিরা
কথায় বলে, প্রেম মানে না কোনো বাধা। আর সেটা সত্যি প্রমাণ করে বলিউডে দারুণ বিন্দাস দিন কাটাচ্ছেন কিছু সেলেব দম্পতি। বলিউডের খানেরা কিন্তু বিয়ে করেছেন ভিন্ন ধর্মের নারীদের। তবে জীবন চলছে দিব্যি।
শাহরুখ খান ও গৌরি ছিব্বর
দাম্পত্য জীবনের রোমান্সে নাকি সিনেমার পর্দাকেও হার মানিয়ে দেন বলিউডের এই দম্পতি। ১৯৮৪ সালের ঘটনা। শাহরুখের বয়স তখন সবে ১৮। সে সময় এক কমন বন্ধুর পার্টিতে প্রথম আলাপ শাহরুখ-গৌরির। প্রথম দেখাতেই গৌরির প্রেমে পড়ে যান শাহরুখ। তার পরে গৌরির ফোন নম্বর চেয়ে নিয়ে জমিয়ে ফেলেন বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে জমে ওঠে প্রেমও। টানা কয়েক বছর প্রেম করার পর অবশেষে গৌরিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন শাহরুখ। কিন্তু মুসলিম ধর্মাবলম্বী শাহরুখের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয় না গৌরির পরিবার। ফলে সাময়িকভাবে শাহরুখের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় গৌরির। কিন্তু ভালোবাসার অমোঘ টানে একসময় গৌরি বুঝতে পারেন, শাহরুখ তাঁর সত্তাজুড়ে বসে আছে। ফলে পরিবারের বাধা অমান্য করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলেন শাহরুখকে।
সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর
২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর বিয়ে হয় সাইফ-কারিনার। শোনা যায়, ‘তাশান’ ছবিতে অভিনয় করার সময় নাকি সাইফ প্রথম কারিনার প্রেমে পড়েন। আর ঠিক তখন থেকে কারিনার সঙ্গে শহিদ কাপুরের সম্পর্ক শেষ হতে থাকে। এর পরে প্রেমকে পরিণতি দিয়ে কারিনাকে বিয়ে করেন সাইফ।
আমির খান ও কিরণ রাও
প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। প্রথমে অবশ্য ছোটবেলার বান্ধবী রীনা দত্তর সঙ্গে বিয়ে হয় আমিরের। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। এর পর ‘লগন’ ছবির সময় ছবির সহপরিচালক কিরণ রাওয়ের প্রেমে পড়েন আমির। তার পরেই বিয়ে হয় দুজনের।
ইরফান খান ও সুতপা শিকদার
১০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে ইরফান আর সুতপার দাম্পত্য। শোনা যায়, দিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’তে ইরফান আর সুতপার প্রথম প্রেম শুরু হয়। বর্তমানে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে এই দম্পতির।
জায়েদ খান ও মালাইকা পারেখ
স্কুলজীবনেই প্রেম শুরু হয় দুজনের। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ছেলে জায়েদ খানের সঙ্গে মেয়ের প্রেমের কথা জানতেন না মালাইকার মা-বাবা। পরে মেয়ের বিয়ের বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাত্র খুঁজতেও শুরু করে দেন তাঁরা। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে বুঝে একদিন জায়েদ নাকি সোজা মালাইকার বাড়িতে গিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি মালাইকাকে বিয়ে করতে চান। পরে অবশ্য দুই পরিবারের সম্মতিতে ধুমধাম করে বিয়ে হয় জায়েদ খান আর মালাইকা পারেখের।
সোহেল খান ও সীমা সচদেব
সোহেল খান পরিচালিত ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’ ছবি মুক্তির দিনেই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন সোহেল আর সীমা। আসলে মুসলিম সম্প্রদায়ের সোহেল খানের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সীমার বিয়ে দিতে রাজি হয়নি সীমার পরিবার। অগত্যা পালিয়ে বিয়ে করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা ছিল না তাঁদের সামনে।
ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক
দীর্ঘ ১০ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বিয়ে করেন দুজনে। ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি বিয়ে করে এই জুটি। শোনা যায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে নাকি একসঙ্গে বেশ কিছুদিন কাটান ইমরান ও অবন্তিকা। অবশেষে বিয়ের বাঁধনে বাঁধা পড়েন দুজনে।
কবির খান ও মিনি মথুর
ছোট পর্দার একটি অনুষ্ঠানে প্রথম আলাপ হয় দুজনের। প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রেমে পড়েন। প্রথম দিকে মুসলিম ধর্মের কবির খানকে মিনির পরিবার মেনে না নিলেও পরে অবশ্য মিনির পরিবার এই বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। দুই পরিবারের সম্মতি নিয়েই রেজিস্ট্রি বিয়ে হয় কবির ও মিনির। এই দম্পতির দুই সন্তান—ভিভান আর সায়রা। তবে সন্তানরা শুধু নামের শেষ ‘কবির’ শব্দটি ব্যবহার করে।

মনোজ বসু, কলকাতা