চলে গেলেন অভিনেতা সাইদ জাফরি
প্রয়াত হলেন ইন্দো-ব্রিটিশ অভিনেতা সাইদ জাফরি। সোমবার সকালে ফেসবুকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান সাইদ জাফরির ভাইঝি শাহিন আগরওয়াল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এই দিন সাইদ জাফরির মৃত্যু সংবাদ দিয়ে তাঁর ভাইঝি শাহিন আগরওয়াল ফেসবুকে লিখেছেন, সাইদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই জাফরি পরিবারের একটি প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটল। আটের দশকের ডাকসাইটে অভিনেতা ছিলেন সাইদ জাফরি। তাঁর অভিনীত অন্যতম ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখর কাপুর পরিচালিত ‘মাসুম’।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’, সাই পরাঞ্জপ্যের ‘চশমে বদ্দুর’ ছবিতেও অভিনয় করেন সাইদ জাফরি। বলিউডের পাশাপাশি সাইদ জাফরি হলিউডের জেমস আইভরি, রিচার্ড অ্যাটেনব্রোর মতো পরিচালকদের সঙ্গেও করেছেন। অভিনয় করেছেন শন কোনারি, মাইকেল কেন, পিয়ার্স ব্রসন্যানের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও। এ ছাড়া ‘দিল’, ‘কিশন কানাইয়া’, ‘ঘর হো তো অ্যাইসা’, ‘রাজা কি আয়েগি বরাত’, ‘দিওয়ানা মস্তানা’, ‘মোহাব্বত’, ‘জব প্যায়ার কিসিসে হোতা হ্যায়’, ‘আন্টি নাম্বার ওয়ান’ ‘হেনা’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মেরি’, ‘নাসিব’, ‘খুন ভারি মাং’, ‘রাম লক্ষ্মণ’ এবং ‘আলবেলা’র মতো জনপ্রিয় ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি ‘গান্ধী’, আ প্যাসেজ ইন্ডিয়া’র মতো আন্তর্জাতিক মানের ছবিতেও অভিনয়ের ছাপ রেখে যান সাইদ জাফরি।
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের মালেরকোটলায় জন্ম হয় এই অভিনেতার। উইনবার্গ অ্যালেন স্কুল, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন সাইদ জাফরি। থিয়েটারের মাধ্যমেই অভিনয় জীবন এবং কর্মজীবন শুরু করেন। দিল্লিতে নিজে একটি থিয়েটার স্কুলও খুলেছিলেন পরবর্তীকালে। এরপর লন্ডন রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে ফিল্ম দুনিয়ায় যাত্রা শুরু করেন। সাইদ জাফরি প্রথম ভারতীয় নাগরিক হিসেবে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার পেয়েছিলেন। মধুর সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তিন সন্তান রয়েছে তাঁদের। ১৯৬৫ সালে মধুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় সাইদ জাফরির। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি কাস্টিং ডিরেক্টর জেনিফার সোরেলকে বিয়ে করেন। ভারত ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক সম্মান পান সাইদ জাফরি। তিনি ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনীত হন। সাইদ জাফরির মেয়ে সাকিনা অভিনয়জগতে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা টুইটারে শোক প্রকাশ করেছেন।

মনোজ বসু, কলকাতা