শাহরুখের বাজি কাজল!
বলিউডের বাদশা তিনি। শাহরুখ খান। বলিউডের বাদশা হওয়া সত্ত্বেও রাজত্ব ধরে রাখতে কম খাটতে হয়নি তাঁকে। তাই হয়তো পরিচালক যশ চোপড়ার মৃত্যুর পর রোমান্টিক ছবিতে আর অভিনয় না করার যে পরিকল্পনা শাহরুখ নিয়েছিলেন তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেন তিনি।
শেষবার তাঁকে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালে যশ চোপড়া পরিচালিত শেষ ছবি ‘জব তক হ্যায় জান’-এ। এর পরের বছর মুক্তি পায় রোহিত শেট্টির পরিচালনায় ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’। অ্যাকশন-কমেডি-রোমান্স ঘরানার বাণিজ্যিক ছবি ছিল ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’।
মাত্র এক সপ্তাহে ২০০ কোটির ক্লাবে নতুন রেকর্ড তৈরি করে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’। বক্স অফিসের সমীহ আদায় করে নিলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কিং খানের সেই সাফল্যের সমীকরণটা পুরোপুরি পাল্টে দেয় আমির খান অভিনীত ‘পিকে’।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পিকে’ ছবিটি দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি বক্স অফিসেও শাহরুখের ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’কে পিছনে ফেলে দেয়। সেই বছর শাহরুখ অভিনীত ছবি বলতে মুক্তি পেয়েছিলো ফারহা খান পরিচালিত ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। যা শাহরুখের নামের জোরে বক্স অফিসে কোনোভাবে জায়গা ধরে রাখলেও দর্শকদের হতাশ করেছিল।
তখনো শাহরুখের অভিনয়ে কিছু একটা মিসিং ছিল। যা যশ চোপড়ার ‘রব নে বানাদি জোড়ি’ ছবি ছাড়াও ‘কাভি আলবিদা না কেহ না’, ‘বীর জারা’, ‘চালতে চালতে’, ‘কাল হো না হো’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর মতো ছবিতে ছিল। যার শুরুটা হয়েছিল ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবির মাধ্যমে।
আসলে শাহরুখ খানকে সবাই রোমান্সের বেতাজ বাদশা বলেই চেনেন। তাঁর অনুরাগীরা মুখিয়ে থাকেন শাহরুখের মুখে প্রেমের সংলাপ শোনার জন্য। তবে ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ কিংবা ‘ডন’ জাতীয় শাহরুখের অভিনীত ভিন্ন ধারার ছবিগুলো দর্শকরা পছন্দ করেছিলেন ঠিকই, তবে এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল ছবি প্রত্যেক বছর তৈরি হয় না।
আর হলেও সব ক্ষেত্রে যে সেই সব ছবি সাফল্য পাবে এমন গ্যারান্টিও থাকে না। ২০১৪ সালটা একটু হতাশা নিয়েই কাটাতে হয়েছিল শাহরুখকে। বছরটা ছিল আমির খানের। পরের বছর ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পায় সালমান খান অভিনীত ‘বজরঙ্গী ভাইজান’।
বোবা এক পাকিস্তানি কন্যাশিশুকে ঘরে ফেরানোর মানবিকতার গল্প দিয়ে রীতিমতো দর্শকমহলে সাড়া ফেলে দেন সালমান। তবে ২০১৬ সালে শাহরুখ অভিনীত ‘ফ্যান’ এবং ‘রায়ীস’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। তবে সে ছবির ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা সময়ই হয়তো বলে দেবে।
এদিকে গত এক বছরে আমির ও সালমান যেভাবে শাহরুখকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন তাতে শাহরুখের ওপর যে বেশ খানিকটা চাপ তৈরি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। যে কারণে হয়তো বলিউড বাদশা এবার নিজের অগ্নিপরীক্ষা দিতে বেছে নিচ্ছেন সেই পুরনো রসায়নকেই।
রোহিত শেট্টি পরিচালিত ‘দিলওয়ালে’ ছবিতে অভিনেত্রী ‘কাজল’কে সঙ্গে নিয়েই রাজকীয় কামব্যাক ঘটাতে চাইছেন কিং খান। ১৯৯৫ সালে যশ চোপড়ার হাত ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। শাহরুখ ও কাজলের সেই অমর প্রেমগাথা নিঃসন্দেহে বাদশার ফিল্মি কেরিয়ারে অন্যতম হীরকদ্যুতি।
২০ বছর বাদে পরিচালক রোহিত শেট্টির হাত ধরে ফিরে আসতে চলেছে সেই রোম্যান্টিক ছবির ফ্লেভার। মাঝে ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘জব তক হ্যায় জান’ কিংবা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর মতো ছবি হলেও ঠিক যেন ছন্দে ফিরতের পারছিলেন না শাহরুখ।
গত এক বছরে আমিরের ‘পিকে’ কিংবা সালমানের ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ মেগাহিট হওয়ার পর এবার বাদশার খেলা দেখানোর পালা। তাইতো কাজলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ট্রাম খেলতে প্রস্তুত কিং খান। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘বাজিগর’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর মতো ছবিতে শাহরুখ-কাজল জুটি সুপার ডুপার হিট। সেই হিট ইমেজকে ফের সামনে তুলে ধরে রোম্যান্টিসিজমের ছোঁয়ায় এবারে বলিউডের বাকি দুই খানকে হয়তো টেক্কা দিতে চাইছেন শাহরুখ।

মনোজ বসু, কলকাতা