অ্যাম্বুলেন্সে ‘ইত্যাদি’র শেষ শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন বাহার
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’খ্যাত অভিনেতা মহিউদ্দিন বাহার আজ সোমবার ভোর ৫টার দিকে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী হলেও অভিনয় ছিল নেশা। সেই নেশা থেকেই চাকরির পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন সেলিমসহ অনেকের নাটকে দীর্ঘদিন অভিনয় করেছেন।
তবে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে। ‘ইত্যাদি’তে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় মহিউদ্দিন বাহারের স্বভাবসুলভ সংলাপ হাসির খোরাক জোগাত। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক হানিফ সংকেত। জানিয়েছেন, ‘ইত্যাদি’র শেষ শুটিংয়ে অসুস্থতার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে অংশ নিয়েছিলেন বাহার।
আজ সোমবার দুপুরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে হানিফ সংকেত লিখেছেন, “শুধু ‘ইত্যাদি’ই নয়, আশির দশকের শুরু থেকে আমার প্রতিটি অনুষ্ঠানেই মহিউদ্দিন ভাই ছিলেন নিয়মিত শিল্পী। তাঁর সঙ্গে ছিল আমার আত্মিক সম্পর্ক। শুটিং ছাড়াও প্রায় নিয়মিতই তিনি আমার অফিসে-বাসায় আসতেন, গল্প করতেন। অভিনয়কে খুব ভালোবাসতেন।”
হানিফ সংকেত আরো লিখেছেন, “‘ইত্যাদি’তে সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ২০১৮ সালের মার্চ মাসে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্বে)। সে সময়ও তিনি অসুস্থ ছিলেন, সেভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। কিন্তু অভিনয়ের প্রবল ইচ্ছে থাকায় আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে আসি। সবাই মিলে কোলে করে তাঁকে দোতলায় ওঠাই। অনেক দিন পর সহশিল্পীদের কাছে পেয়ে সারা দিন তাঁদের সঙ্গে গল্প করে কাটিয়ে দেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সহজ-সরল মানুষ। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে ২০০৫ সালে অবসর নেন এই অভিনেতা। খুব কাছ থেকে দেখেছি বলেই জানি, মহিউদ্দিন ভাই ছিলেন একজন সৎ, নীতিবান আদর্শ সরকারি কর্মকর্তা। গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর জন্য মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
অভিনেতা মহিউদ্দিন বাহার হার্ট, কিডনিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৯৪৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে ২০০৫ সালে অবসর নেন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছোটদের সিরিজ ‘রোজ রোজ’-এ প্রথম অভিনয় করেন মহিউদ্দিন বাহার।

বিনোদন ডেস্ক