আশুলিয়ায় ৫ পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আজও (রোববার) কর্মবিরতি পালন করছেন আশুলিয়ার পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল শনিবারের (৩১ অক্টোবর) সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার সকালে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় গুমোট পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে শনিবারের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত রয়েছে। শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ে কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করার পর দাবি আদায়ে কর্মবিরতি শুরু করেন।
শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। তবে শ্রমিকরা এতে সাড়া দেননি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে মালিকপক্ষ অর্থ পাবে না। এতে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ বিষয়গুলো শ্রমিকদের বোঝানো হচ্ছে। পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও কাঠগড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৬টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

জাহিদুর রহমান