সার উদ্ধার অভিযানে কৃষি কর্মকর্তা-সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে অবৈধ ইউরিয়া সার উদ্ধার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সির দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা তাদের লাঞ্ছিত করে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে বিপুল ইউরিয়া সার অবৈধভাবে মজুদ রাখা হয়েছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে জেলা কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১৫০ বস্তা অবৈধ ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়।
সার উদ্ধারের পর ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সানোয়ার মুন্সির ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল লোক কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে লাঞ্ছিত করে। একই সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার বিপ্লব ইসলাম ও ক্যামেরা পার্সন সোহেল রানা, সারাবাংলা নিউজ পেজ ও দৈনিক আমাদের কথা এবং সাপ্তাহিক গণমানুষের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মুনির হাসানসহ স্থানীয় ৫ জন সাংবাদিককে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

খায়রুল বাসার, গাইবান্ধা (গোবিন্দগঞ্জ)