বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করে হিলিতে চীনের যুবক
বাংলাদেশি তরুণীর প্রেমের টানে হিলিতে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছেন পংফং নামে এক চীনা যুবক। ওই চীনা যুবক এখন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামে স্ত্রী রাইসা আক্তারের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে চীনের নাগরিক পংফংয়ের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। এরপর প্রেম থেকে বিয়ে।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর চীনা যুবককে এক নজর দেখতে রাইসার বাড়িতে ভিড় করছে স্থানীয় উৎসুক জনতা। কেউ কেউ জানাচ্ছে তাদের শুভ কামনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রেমিকা রাইসা আক্তার চীনা স্বামী পংফংকে সঙ্গে নিয়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই চীনা নাগরিক বাংলাদেশে আসেন। পরে গাজীপুরে আদালতে উপস্থিত হয়ে পংফং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় তার নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আলী। একই সঙ্গে ওই আদালতে রাইসা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।
মাঠপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন ও আরিফ জানান, পংফং পেশায় একজন গার্মেন্টস বায়ার বলে শুনেছি। তিনি চীনের হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফাংলে জুন এবং মায়ের নাম শিয়ান চিং।
অন্যদিকে রাইসা আক্তার মাঠপাড়া এলাকার রিয়াজুল হকের মেয়ে। তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সেখানে চীনা যুবক পংফংয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়। এরপর তারা বিয়ে করে হিলিতে আসেন।
জানতে চাইলে রাইসা আক্তার জানান, তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সেখানে পংফংয়ের চাচার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পংফংয়ের চাচা একজন বায়ার। তিনি তার ভাতিজা পংফংয়ের সঙ্গে তাকে মোবাইল ফোনে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
রাইসা বলেন, একপর্যায়ে আমি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। সে রাজি হলে আমাকে বিয়ে করার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসে। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরে আদালতে উপস্থিত হই। উকিলের মাধ্যমে আদালতে পংফং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সম্মতি দেয়। তখন আদালতে তার নাম মোহাম্মদ আলী রাখা হয়। এরপর সে আমাকে বিয়ে করে। আমাদের বিয়ে নিয়ে আমার পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই খুশি। স্বামীকে নিয়ে আমি আমার বাবার বাড়িতে এসেছি। আমরা ভালো আছি।
রাইসার এক আত্মীয় জানান, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে রাইসা ঢাকায় থাকে। সেখানে চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা একে অপরকে পছন্দ করে, ভালোবাসে। পরে চীনা যুবক রাইসাকে বিয়ে করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তারা হিলির মাঠপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসেছে। আমাদের কারও কোনো আপত্তি নেই। আমরা তাদের বিয়ে মেনে নিয়েছি।

জাহিদুল ইসলাম, হিলি