বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে চালকদের দৃষ্টি পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা বিতরণ
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে চালকদের বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিটিসিএ ভবনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ চালক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের দৃষ্টি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে মোট ১ হাজার চালককে এ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক শুধু উন্নত অবকাঠামো বা কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে না; চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তিও এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই চালকদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গাড়িচালকদের কাছেও এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পেশাদার চালকদের সুস্থতা এবং বিশেষ করে সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি নিরাপদ যান চলাচল ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে এ যৌথ উদ্যোগ চালকদের সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিরোধমূলক সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ডিটিসিএ।
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শাহরোজ জলিল বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন খাতের কর্মীর দৃষ্টি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দৃষ্টি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল এমন ২৪ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে চশমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগে ডিটিসিএ, বিআরটিসি, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়া গেছে। চালক ও পরিবহনকর্মীদের জন্য সহজলভ্য দৃষ্টি সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক