গাবখান নদীর ভাঙন, অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়ি ও মসজিদ রক্ষায় মানববন্ধন
ঝালকাঠির গাবখান নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি। এসব রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন করেছে তারা।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে শহরতলীর গাবখান সেতুর উত্তর পাশে কেফাইতনগর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ মানববন্ধনে নদী তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে, দীর্ঘদিন ধরে গাবখান নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীর থেকে পাশের নগর খাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী অর্ধশতাধিক পরিবার ও মৌলভীবাড়ি জামে মসজিদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটার দিকে এগিয়ে আসছে পানি।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঘরবাড়ি, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, গাবখান নদীর ভাঙন এলাকাবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি মাওলানা হাফেজ মো. কাওছার, সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহ আলম খান ফারসু, মৌলভীবাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাসউদুর রহমানসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় বক্তারা গাবখান নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ নিতে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের সহযোগিতা কামনা করেন।

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি