মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের আমলের ঐতিহাসিক ‘দা’ উদ্ধার
যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত আমলের একটি ঐতিহাসিক বড় ‘দা’ (খাড়া অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (১৭ জুলাই) বিকেলে সাগরদাঁড়ি দাশপাড়া (ঋষিপাড়া) এলাকার বাসিন্দা মৃত বাসুদেব দাশের বাড়ি থেকে প্রাচীন এই ২০০ থেকে ২৫০ বছর আগের ‘দা’টি (খাড়া অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা ‘দা’টি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িতে ব্যবহৃত সমসাময়িক কালের একটি পুরোনো অস্ত্র। এই ‘দা’র মাঝখানে দুই পাশে দুটি চোখ আঁকানো রয়েছে—যেটা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চোখ দুটো স্বর্ণ দিয়ে তৈরি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি প্রথম এই ঐতিহাসিক ‘দা’টির সন্ধান পান। পরবর্তী সময়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামানের নির্দেশনায় মধুপল্লীর কম্পিউটার অপারেটর মো. হারুন অর রশিদ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি মৃত বাসুদেব দাশের বাড়ি থেকে দাটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান মো হাসানুজ্জামান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ভাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিই। আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিদর্শনটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সমসাময়িক কালের একটি ঐতিহাসিক অস্ত্র। মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাচীন নিদর্শনটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এটি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে এবং এটি দর্শনার্থীদের দেখার ও গবেষণার জন্য সাগরদাঁড়ি এম এম দত্তবাড়ি জাদুঘরে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি রক্ষায় যারা তথ্য ও সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ।
এদিকে মহাকবির আমলের এই প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা ও কবি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি একনজর দেখতে অনেকেই মধুপল্লী এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)