বাগেরহাটে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশুর পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন
বাগেরহাটের খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতিমার (৮) পরিবারকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে শিশুটির মা ফজিলা খাতুনের (৪০) হাতে ঢেউটিন ও নগত টাকা তুলে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমানের পক্ষে উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে হাবিবা মীরা এই সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উম্মে হাবীবা মীরা নিহত ফাতিমার মামা হারেজ আলীর বরাত দিয়ে বলেন, নিহত ফাতিমার বাড়ি সদর উপজেলার চর খরিচা গ্রামে। বাইশ বছর আগে একই গ্রামের ফাতিমার বাবা মমরোজ আলীর সঙ্গে ফজিলা খাতুনের বিয়ে হয়। এরপর পারিবারিক বিরোধে স্বামী-স্ত্রী ছাড়াছাড়ি হলে দুই মেয়েসহ ফজিলা খাতুন ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। মামার বাড়ি থেকেই তিন বছর আগে মাসহ হারিয়ে যায় ফাতিমা।
ফাতিমার মামা হারেজ আলী বলেন, বিয়ের পর আমার বোনের মাথায় একটু সমস্যা দেখা দিলে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। তিন বছর আগে হারিয়ে যান তার বোনসহ ফাতিমা। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ভাগ্নিকে বাগেরহাটের পুকুরে কুমিরে টেনে নেওয়ার পর ভাইরাল খবরে তাদের চিনতে পেরে সেখানে যান হারেজ আলী। পত্রিকার খবরে বিষয়টি জানার পর ফাতিমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসন। আজ দুপুরে তাদের হাতে জেলা প্রশাসকের সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
হারেজ আলী বলেন, মমরোজ আলী–ফজিলা খাতুন দম্পতির চার ছেলেমেয়ে। কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতিমা ছিল সবার ছোট। ফাতিমার দুই ভাই বজলুর (১৪) ও মোস্তাকিম (১২) থাকে বাবার সঙ্গে। বড় বোন মুসলিমা খাতুন (২২) থাকেন স্বামীর বাড়িতে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ