শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১২ কর্মদিবসে ৩ জনের ফাঁসি
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় মাত্র ১২ কর্মদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে ফাঁসির আদেশ এবং একজনকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালত চত্বরে ভিন্ন ভিন্ন ট্রাইব্যুনালে এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
ময়মনসিংহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আরিফ (১৯), রাকিব (১৯) ও সাইফ (২১)।
আসামিদের মধ্যে মারুফ (১৬) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তনয় সাহা তাকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এর আগে মামলার চার আসামিকেই আদালতে তোলা হলে বিচারক তনয় সাহার কাছে তারা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা এবং দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় ১৬ বছর বয়সী আসামি মারুফ ফুসলিয়ে শিশু নিছামনিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপর তিন আসামি আরিফ, রাকিব ও সাইফও এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হয়। পরে তারা শিশুটির মরদেহ কংস নদীতে ফেলে দেয়। ১৫ জুন নদীতে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
ওই দিনই নিছামনির বাবা রাজু মিয়া বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা আদালতে বিচারক তনয় সাহার কাছে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনের মাথায় গত ২৩ জুন ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম। ২৪ জুন বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নেন। এরপর মাত্র ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামি পক্ষে মামলা লড়েন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ
তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)