নিখোঁজের ৫৬ ঘণ্টা পর ৪ কিশোরী উদ্ধার
পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যালয়ের যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে একসঙ্গে চার কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ৫৬ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি মৌচাক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এখন তারা পুলিশ ফাঁড়িতে নিরাপদে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বাউফলে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।
ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ১০ মে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয় চার কিশোরী। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়িতে ফিরে না এলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবার। পরে পুলিশের একাধিক দল নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে মাঠে নামে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরে কোনাবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় মৌচাক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজীরপুর থেকে তাদের বাউফলে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।
নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর এলাকার মান্নান গাজীর মেয়ে সানজিদা আক্তার (১২), আলী হোসেনের মেয়ে আয়শা আক্তার (১৩), খোকন সরদারের মেয়ে ইসমত জেরিন সাজনিন (১২) ও একই এলাকার আল আমিনের মেয়ে রায়সা আক্তার (১০) বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। ছুটির পর বাড়ি ফিরে না এলে বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তারা বিদ্যালয়ে যায়নি। পরে সম্ভাব্য জায়গা, আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আরেকজন একটি মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তারা নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন সোমবার একটি অচেনা নম্বর থেকে নিখোঁজ কিশোরীদের মধ্যে একজন তার মায়ের ফোনে কল করে জানায়, ‘তারা চারজন এক আন্টির সঙ্গে বেড়াতে গেছে। কোথায় কার সাথে গেছে তা না বলেই ফোন কেটে দেয়। পরে ফোন বন্ধ করে রাখে। পুলিশ ওই অচেনা নম্বরের সূত্র ধরেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা তাদের গাজীপুর থেকে উদ্ধার করে।
এদিকে নিখোঁজের পর থেকেই কিশোরীদের পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। উদ্ধার হওয়ার খবরে তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের ওপর অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ওই চার কিশোরী। তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি মৌচাক এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এখন তারা গাজীপুরে পুলিশের হেফাজতে নিরাপদে আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)