ব্যস্ত পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখন যাত্রী সংকটে নিস্তব্ধ
একসময়ের দেশের ব্যস্ততম নৌরুট মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখন অচেনা। ঈদুল ফিতরের আগের দিন যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকত না, সেখানে এবার দেখা গেল এক ভিন্ন ও নিস্তব্ধ বাস্তবতা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের ঢল এবার সেতুমুখী হওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট কার্যত যাত্রী ও যানবাহন সংকটে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ফেরি পন্টুনে নোঙর করে আছে। একসময় যেখানে পারাপারের জন্য যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে ফেরিগুলোই অপেক্ষা করছে যাত্রীর জন্য। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে যাত্রীরা পদ্মা সেতু ব্যবহার করায় এই রুটে চিরচেনা সেই ভিড় আর নেই।
সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে পরম স্বস্তির খবর। কোনো যানজট বা ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছেন। তবে এই স্বস্তির উল্টো পিঠে রয়েছে ঘাটে কর্মরত হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাস। ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য এখন প্রায় স্থবির। হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
এদিকে পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে- এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে এই পরিবর্তনের ঢেউ সরাসরি আঘাত হেনেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ওপর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে এবং বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে পাটুরিয়া ঘাট ধীরে ধীরে তার ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে।
স্থানীয় হকার জাবেদ আলী বলেন, আগে ঈদ মানেই ছিল আমাদের বাড়তি রোজগারের সময়। এখন সারাদিন ফেরিঘাটে বসে থেকেও ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে চললে আমাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাম হোসেন বলেন, সকাল থেকেই ঘাটে প্রায় ১৭টি ফেরি প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত যাত্রী ও যানবাহন না থাকায় একটি ফেরি পূর্ণ করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে অনেক সময় অল্প যাত্রী নিয়েই ফেরি ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ