দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত মানিকগঞ্জের ঐতিহাসিক বালিয়াটি প্রাসাদ
ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে। ১৯শ শতকের স্থাপত্যশৈলী আর ইতিহাসের সাক্ষী এই প্রাসাদটি এখন পর্যটকদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত পুরো প্রাসাদ চত্বর।
প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে সাতটি দক্ষিণমুখী দালান, সারিবদ্ধ করিন্থিয়ান স্তম্ভ ও রাজকীয় সিংহদ্বার। উত্তর পাশের পুকুর আর সুনিপুণ কারুকাজে অলংকৃত দেয়ালগুলো দর্শনার্থীদের নিয়ে যাচ্ছে ঔপনিবেশিক আমলের সেই সোনালি অতীতে। বর্তমানে প্রাসাদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘রংমহল’ ভবনটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ১৯৮৭ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
ইতিহাস আর প্রকৃতির এই অপূর্ব মিশেল উপভোগ করতে যারা এখনও বালিয়াটি প্রাসাদ দেখেননি, তাদের জন্য এই ঈদের ছুটি হতে পারে এক অনন্য সুযোগ। প্রাচীন ঐতিহ্যের গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি আপনাকে দেবে এক টুকরো নির্মল আনন্দ ও অতীত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
পাবনা থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা সারোয়ার হোসেন বলেন, শুনে যতটা ভালো লেগেছিল, বাস্তবে এটি তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। তবে এখানে খাবার ও বিশ্রামের সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে পর্যটকদের জন্য আরও ভালো হতো।
অন্যদিকে ফরিদপুর থেকে আসা নীলা চক্রবর্তী জানান, প্রাসাদের প্রতিটি কারুকাজ ও পুকুরের ঘাট তাকে ইতিহাসের গভীরে নিয়ে গেছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ