দুই আসনেই প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ড. সাফিউর রহমান
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কুড়িগ্রামের দুটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈধতা ফিরে পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ড. সাফিউর রহমান। কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) এবং কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে ‘হাঁস’। আদালতের রায়ে তার এই প্রত্যাবর্তন কুড়িগ্রামের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমেই নির্বাচনি মাঠে নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় শুরুতে তার প্রার্থিতা গ্রহণ করা হয়নি। তবে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি হাইকোর্টের আশ্রয় নেন। গত ২২ জানুয়ারি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার পর গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রতীক পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাফিউর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম-২ ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই আমার নির্বাচনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য। হাঁস প্রতীক নিয়ে আমি জনগণের দ্বারপ্রান্তে যেতে চাই। সাধারণ মানুষের সমর্থন ও দোয়া নিয়ে আমি জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে আগ্রহী।
সাফিউর রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার ফলে কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে বর্তমানে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। এতে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. সাফিউর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি এখন থেকে বিধি মোতাবেক কুড়িগ্রাম-২ ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন।

তানভীরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম (চিলমারী- উলিপুর)