প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে গৃহবন্দি, নতুন দায়িত্বে আলিয়ানা
প্যারাগুয়েতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। উয়েনো ব্যাংক ধসে পড়ার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাকে পদচ্যুত করা হয়েছে। সিনেটের সব সদস্য অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। এর পরপরই তাকে গৃহবন্দি করা হয়।
১৯৮৯ সালের পর এই প্রথম প্যারাগুয়েতে কোনো প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হলেন। উয়েনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের অর্ধেক মানুষের সঞ্চয় আটকে যায়। এতে সাধারণ মানুষ ও আমানতকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, পেনা নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন। সরকারি শত শত কোটি ডলার তিনি উয়েনো ব্যাংকে বিনিয়োগ করেন। ব্যাংকটির সাবেক প্রধান কার্লোস কারভাল্লোকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বানিয়েছিলেন। এর ফলে ব্যাংকটির অনিয়মগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পেনিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রায় ঘোষণার পর আসুনসিওনে তার বাড়ি পুলিশ ঘিরে ফেলে। প্রসিকিউটরদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
পেনার পদচ্যুতির পর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো অলিয়ানা। তিনি ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্যারাগুয়ের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে উয়েনো ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মিগুয়েল ভাসকুয়েজসহ ৬ জন সাবেক পরিচালককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারই এই ব্যাংক সংকটের মূল কারণ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক