যে কারণে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেও গল্ফ অঞ্চল থেকে খনিজ তেলের প্রবাহ ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কিছুতেই কমছে না, বরং দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মজুত হ্রাস এবং সমুদ্রপথে পরিবহণ ও বিমা খরচ চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বাজার বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বাজার নজরদারি সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের গল্ফ এলাকা থেকে দৈনিক তেল রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪৬ লাখ ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের গড়ের চেয়েও বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রাক-যুদ্ধ পরিস্থিতির চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি উঁচুতে অবস্থান করছে। শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১১৭ ডলার স্পর্শ করেছে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অ্যাডি ইমসিরোভিচ আল জাজিরাকে জানান, বাজারে আপাতত পর্যাপ্ত তেল দেখা গেলেও যুদ্ধ শিগগিরই থামার কোনো লক্ষণ নেই; বরং সংঘাত আরও ব্যাপক রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটছে তেলের দামে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজ সংস্থাগুলো ওমান ও আমিরাত উপকূলে সামুদ্রিক স্থানান্তরের বিকল্প পথ গ্রহণ করেছে। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে পণ্য সরানোর চেষ্টা করা হলেও সমুদ্রপথে পরিবহণ খরচ বহুগুণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যমতে, এক ব্যারেল তেল পরিবহণের জন্য জাহাজের ভাড়া এখন প্রতি ব্যারেলে ৪০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা স্বাভাবিক হারের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। জাহাজে হামলা ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বিমা মাশুল আকাশচুম্বী হওয়ায় জ্বালানি তেলের চূড়ান্ত মূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে।
একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের মজুত কমেছে। সামগ্রিক বিশ্ববাজারের খনিজ তেলের হাতমজুত প্রাক-সংঘাত মেয়াদের চেয়ে প্রায় ৫০ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ না হলে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা স্থায়ীভাবে না কমলে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম শিগগিরই কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক