স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টােবর) সকালে মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী একটি ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। খবর বিবিসির।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটির পর ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রেন নিয়ন্ত্রক ও চালকদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিংয়েও একটি ট্রেনকে চলার অনুমতি দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও সামনে আরেকটি ট্রেন থেমে ছিল।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে শত শত কর্মী, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্পেনের সিভিল গার্ড মাদ্রিদ, তোলেদো, সেভিল ও কর্দোবায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কেন্দ্র খুলেছে। পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, পুরো স্পেন শোকাহত। একই বছরে দুটি বড় রেল দুর্ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবার কাছে আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে মাদ্রিদে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ও পরিবহনমন্ত্রী পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তবে কোনো হতাহত বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
রেল নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবারের পূর্বনির্ধারিত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেনের রেলচালকদের ইউনিয়ন সেমাফ। দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক