নতুন করে ‘শক্তিশালী’ হতে পারে ইরানের মিত্ররা
প্রতিবেশী দেশ ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ সেনা সরিয়ে নেওয়ার পর বিষয়টি উদযাপন করছে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই অঞ্চলে তেহরানের সহযোগী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো নতুন করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। খবর আল জাজিরার।
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক বলয় বিস্তারের প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ইরাক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭ জনই প্রাণ হারিয়েছেন ইরাকের মাটিতে।
বাগদাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ ইউনুস মনে করেন, পশ্চিমাদের সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরানি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা প্রসারিত করা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়াকে নিজেদের বড় জয় হিসেবে দেখছে ইরান ও তাদের মিত্ররা। ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি একে ‘ইরাকি ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধা ও সম্মানীয় ইরাকিদের ঐতিহাসিক বিজয় এবং মার্কিন প্রজেক্টের চরম পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী স্বৈরাচারী শাসক সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পর সৃষ্টি হওয়া অরাজকতায় ২ লাখের বেশি ইরাকি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। দুই দশকের এই সামরিক উপস্থিতিতে সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনাও নিহত হন।
‘আরব পার্সপেক্টিভস ইনস্টিটিউট’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাইদুন আলকিসানির মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর অন্তর্ভুক্ত ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সংবরণ বা নিরস্ত্র করার জন্য যে ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা সামলানো ইরাকের জন্য এখন বেশ সংবেদনশীল এক চ্যালেঞ্জ। কারণ সামরিক শক্তি ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার শুধু সরকারি বাহিনীর হাতেই ফিরিয়ে দিতে চায় ওয়াশিংটন।
আলকিসানি আরও উল্লেখ করেন, এই সশস্ত্র দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরাকে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ২০১৮-১৯ সালের দিকে সাধারণ জনগণ এদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, আইএসআইএল (আইসিস) উৎখাতে পিএমএফ-এর অবদানকে ইরাকিরা স্বীকৃতি দেয়। উপরন্তু, দেশের প্রশাসন ও অর্থনীতির ভেতরের কাঠামো বা ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে এই প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর গভীর রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের তোয়াক্কা না করেই দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ইরানি প্রভাব খর্ব করতেই এসব সশস্ত্র উপদলকে নিরস্ত্র করতে এখন অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক