সৌদিতে ড্রোন হামলা : ইরানের সঙ্গে তিন সীমান্তপথ বন্ধ করল ইরাক
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ইরাক। হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে তিনটি সীমান্তপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইরাকের একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরাকের বাগদাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জ্যাক হিউসন জানান, বন্ধ করে দেওয়া সীমান্তপথগুলোর মধ্যে রয়েছে বসরা প্রদেশের শালামচেহ, মাইসান প্রদেশের আল-শিব এবং দিয়ালা প্রদেশের মানদালি। হামলাকারীরা যাতে ইরানে পালিয়ে যেতে না পারে, সে আশঙ্কা থেকেই এসব সীমান্তপথ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশের আল-তাইয়িব সীমান্ত এলাকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম বা লঞ্চার পাওয়ার পর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
ইরানের অনুরোধে সীমান্তের কাছে পাওয়া ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে যৌথ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। শনিবার ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমানের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় পাওয়া গেছে বা কতটি ড্রোন ছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছিল, মাইসান প্রদেশ থেকেই সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার সামরিক কমান্ডারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন আল-জাইদি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় রিয়াদ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ইরাকে ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে এবং দেশটিতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতিও রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাটি তাদের জন্য ‘সম্মানের বিষয়’, তবে তারা এর দায় স্বীকার করছে না।
এর আগে সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির তেল অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ তুলেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার পেছনে তেহরানের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের জন্য এই পাইপলাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে কাজ করছিল। পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে, সেটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত বা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেওয়া পর্যন্ত বড় পরিসরে তেল রপ্তানির সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমে গেলে বিশ্ববাজারে পাইকারি তেলের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের কৌশলগত প্রভাবও বাড়তে পারে।
এদিকে সৌদি আরবের মিত্রদের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সংঘাতও নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক।
হুথিরা এরই মধ্যে সৌদি আরবের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক