ইনফ্লুয়েন্সারকে মাটিতে পুঁতে হত্যা, বয়ফ্রেন্ড গ্রেপ্তার
৩১ বছর বয়সী রূপচর্চাবিষয়ক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অস্ট্রিয়ার প্রসিকিউটররা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নিহত ওই তরুণীকে অচেতন অবস্থায় স্যুটকেসে ভরা হয়। তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে জঙ্গলে স্যুটকেসটি পুঁতে ফেলা হয়েছিল মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে। খবর দ্য সান-এর।
নিহত ওই ইনফ্লুয়েন্সারের নাম স্টিফানি পাইপার (৩১)। তিনি গত বছরের নভেম্বর মাসে অস্ট্রিয়া থেকে নিখোঁজ হন। পরে স্লোভেনিয়ার একটি জঙ্গলের মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রাৎস শহরের সরকারি প্রসিকিউটরের কার্যালয় অভিযুক্ত সাবেক প্রেমিক প্যাট্রিক এম-এর বিরুদ্ধে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে মামলা করেছে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গ্রাৎস শহরে স্টিফানির নিজের ফ্ল্যাটেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে প্যাট্রিক এম। জ্ঞান হারানো পর্যন্ত চেপে রাখা হয় মুখ। পরবর্তীতে শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতও করা হয়। প্রসিকিউটররা জানান, স্টিফানি অচেতন হয়ে পড়লে প্যাট্রিক তাকে একটি বড় স্যুটকেসে ভরে ফেলেন। পরে গাড়িতে করে সীমান্ত পার হন। স্লোভেনিয়ার জঙ্গলে নিয়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলেন স্যুটকেসটি।
২৯ নভেম্বর গ্রাৎস পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্যাট্রিক এম নিজেই মরদেহ লুকানোর স্থানটির তথ্য দেন। পুলিশ স্লোভেনিয়ার জঙ্গল থেকে স্টিফানির মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে চিকিৎসকরা জানান, জঙ্গলে মাটিচাপা দেওয়ার সময়ও স্টিফানি মারা যাননি। বরং জীবিত অবস্থাতেই তাকে পুঁতে ফেলা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের পরপরই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে প্যাট্রিক জানিয়েছিলেন, হিংসা ও সন্দেহজনক সম্পর্কের জের ধরেই তিনি স্টিফানিকে হত্যা করেন।
গ্রাৎস সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্যাট্রিক এখন হত্যা করার কথা অস্বীকার করছেন। যদিও মরদেহ বহন ও তা গুম করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, বড়দিনের পার্টি (ক্রিসমাস পার্টি) শেষে বন্ধুর সঙ্গে ট্যাক্সি থেকে নেমে নিজের বাড়িতে ফেরার পরই শেষবারের মতো দেখা যায় ইনফ্লুয়েন্সার স্টিফানিকে। নির্ধারিত একটি ফটোশুট অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ায় তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশ তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। রক্তের দাগ দেখতে পায়। এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে তার শেষ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় স্টিফানি লিখেছিলেন, তিনি সিঁড়ির কাছে সন্দেহভাজন ‘এক বিকৃত মানসিকতার লোক’ দেখতে পেয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা ফ্ল্যাটে জোরালো তর্কাতর্কির শব্দ শুনেছিলেন। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানান, তিনি প্যাট্রিক এম-কে একটি কার্পেট বা চাদরে মোড়ানো বড় কোনো বস্তু বহন করে ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছেন। পরবর্তীতে স্লোভেনিয়ার সীমান্তের কাছে প্যাট্রিকের ব্যবহৃত লাল রঙের ভোক্সওয়াগন গাড়িটি আগুনে পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্টিফানির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি গ্রাৎস শহর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
প্যাট্রিকের ভাই এবং সৎবাবার বিরুদ্ধেও মরদেহ পরিবহণে সহায়তার প্রাথমিক সন্দেহ থেকে তদন্ত শুরু হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অস্ট্রিয়ান প্রসিকিউটররা তাদের সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট নিহত স্টিফানি পাইপারের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ৪৮ হাজার অনুসারী বা ফলোয়ার ছিল। নিজ কাজের পাশাপাশি নারীদের ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন এই তরুণী।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক