বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও সৌদি আরবের তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
আজ সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এ সময় নভেম্বরের ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ০৯ ডলারে লেনদেন হয়। দাম কমে যায় ১ দশমিক ৭৮ ডলার বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্টের দাম ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের।
অক্টোবরের ডব্লিউটিআই ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৭ ডলার বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমেছে। আগের সেশনেও এর দাম ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছিল।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ প্রশমনে এ সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দামে থাকা কিছু ঝুঁকি কমে গেছে।
তবে এই কূটনৈতিক আশাবাদ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আবারও আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে তেহরান।
তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের তীরবর্তী তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান নতুন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে এবং আগে হামলা হয়নি এমন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে সৌদি আরবের অনুরোধের পর চীন ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্র।
হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরামকো ইয়ানবুর মাধ্যমে কিছু তেল সরবরাহ বন্ধ করেছে। এর পরিবর্তে চলতি মাস ও আগামী মাসে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ আশানুরূপ শক্তিশালী রয়েছে।
তাদের হিসাবে, গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় মাত্র ৬১ লাখ ব্যারেল কম।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক