সৌদির পাইপলাইনে ইরাক থেকে ড্রোন হামলা, বন্ধ তেল সরবরাহ
সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সিস্টেমে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাইপলাইনের পাশে অবস্থিত পাম্পিং স্টেশনগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে একটি পাম্পিং স্টেশনে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যটিতে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এছাড়া স্যাটেলাইটে পাইপলাইনের কাছে নয়টি বড় আগুনের শিখা শনাক্ত করা হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে আসা একাধিক ড্রোন দিয়ে এ আক্রমণ চালানো হয়। তবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে দেশটি আপাতত কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ইরাক সরকার হামলা থেকে নিজেদের ভূমি ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার জরুরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবের জন্য এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রিয়াদ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছিল। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের একটি বন্দর দখল করার পর এবার পাইপলাইনে হামলায় দেশটির তেল রফতানি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ল।
ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আগেই ইরান কর্তৃক ইরাকি প্রক্সি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমে ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক