তেলের দাম বাড়ায় স্বর্ণের দামে পতন
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে (স্পট মার্কেট) স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে আসে। অথচ এ দিনের শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ওপর চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের তেহরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বেশ কিছু জ্বালানি স্থাপনা ও শহরে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায়। এতে তেলের দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত কমে। ওই দিন জানা যায়, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ও বেকারত্বের হার চার দশমিক এক শতাংশে স্থির ছিল- যা মার্কিন শ্রমবাজার শক্তিশালী হওয়ার বড় প্রমাণ।
‘সিএমই ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা থাকায় আগামী সপ্তাহে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। সাধারণত মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পেতে স্বর্ণে বিনিয়োগ করা হলেও সুদের হার বেশি থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
তবে এ দিন মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা বেশ সাশ্রয়ী হয়েছে। আগামীতে ফেড কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি সপ্তাহের মার্কিন উৎপাদক ও ভোক্তা মূল্যসূচক তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।
বাজার বিশ্লেষক জাবোরাসের মতে, অস্থির বাজার ও অর্থনৈতিক তথ্যের অনিশ্চয়তার কারণে আগামীতে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রূপার দাম শূন্য দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক শূন্য আট ডলারে নেমেছে। আর প্ল্যাটিনামের দাম বেড়ে ১ হাজার ৮৩৬ দশমিক ৭২ ডলারে উঠলেও প্যালাডিয়ামের দাম কমে এক হাজার ৩৮৭ দশমিক ৪৩ ডলারে পৌঁছেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক