হরমুজ প্রণালিতে ২ তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ, ৪ জাহাজের গতিরোধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্কার দুটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। তবে ট্যাঙ্কারগুলোর পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে আরও চারটি জাহাজের গতি রোধ করার দাবি করেছে আইআরজিসি। খবর স্ট্রেইটস টাইমসের।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে টানা সপ্তম রাতের মতো দেশটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন ও দুটি সেতুসহ তাদের বেশ কিছু বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনা ও সম্পদে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন হামলা আর দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান’ শুরু করবে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।
দ্বিতীয় দফায় গত ২২ জুন মার্কিন হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার ইরান এই অঞ্চলের একাধিক দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। কুয়েতের সামরিক ঘাঁটি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরানি ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন কুয়েতি সেনা আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে কাতারে অবস্থিত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ও সামরিক বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও দেশটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। এছাড়া বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানি হামলায় এক বিরোধী গোষ্ঠীর ৯ সদস্য নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় তীব্র গরমের মধ্যেই নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে এবং পিক আওয়ারে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংকট নিরসনে চীন ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করায় এবং ওমান উপকূলে আরেকটি ব্রিটিশ ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক