‘বাভি’র তাণ্ডবে বিপর্যস্ত চীন, নিরাপদ আশ্রয়ে ২৮ লাখ মানুষ
চলতি বছরে চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় টাইফুন ‘বাভি’ দেশটির পূর্ব উপকূলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রবল বাতাস ও টানা ভারি বৃষ্টিতে পূর্ব চীনের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও আগামী কয়েক দিন পূর্ব ও উত্তর চীজুড়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া বিভাগ।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে ২৮ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২২ লাখের বেশি বাসিন্দাকে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুনটি প্রথমে ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলীয় শহর ইউহুয়ানে আঘাত হানে। এরপর মধ্যরাতের কিছু পর দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েনঝৌ শহরের ইউয়েচিং এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশ করে।
ইউয়েচিংয়ের বাসিন্দা লি লিয়াংশিং বলেন, বাতাস এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ছাদের টাইলস ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ার শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। আমরা ভয় পেয়েছিলাম, তবে সমুদ্রের পাশে থাকি বলে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত।
লি লিয়াংশিং জানান, তাদের আবাসিক এলাকার পাশের খালটি এতটাই ভরে উঠেছে যে আগে যেখানে হাঁটার পথ ছিল, সেটি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইউয়েচিং শহরেই ১ হাজার ৩০০টির বেশি গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়েছে, যার মধ্যে ৭০০টির বেশি গাছ পুরোপুরি উপড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর ও চেইনসো ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালাচ্ছেন।
পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। সিসিটিভির সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল পাথর গড়িয়ে পাহাড়ি সড়কে পড়ছে এবং নদীর ফুলে ওঠা পানিতে আশপাশের গাছপালা তলিয়ে গেছে।
ইউহুয়ানের উপকূলীয় মাছ ধরার শহর কানমেনের বাসিন্দা লিন ইয়ংজিন জানান, সমুদ্রের ধারে অবস্থিত তার দোকানটি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের ছাউনির ধাতব কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং পাশের ভবনের জানালা উড়ে গেছে। তার ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ ৬ হাজার ইউয়ানের বেশি।
লিন ইয়ংজিন বলেন, ঝড় স্থলভাগে আঘাত হানার পর কিছুই করার ছিল না। সারারাত ঘরে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানি সরাতে ব্যস্ত ছিলাম। ভোর ৫টার আগে ঘুমাতে পারিনি।
চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুন ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ঝড়ের কারণে তাইওয়ানে ১৩৭টি আন্তর্জাতিক এবং ৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
চীনেও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ঝেজিয়াংয়ের রাজধানী হাংজুতে দুটি বড় রেলস্টেশনের সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ৩২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাংহাইয়ে বাতিল করা হয়েছে ১ হাজার ৬২০টি ট্রেন এবং ৬৮৪টি ফ্লাইট।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুনটি বর্তমানে আনহুই প্রদেশ অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং মঙ্গলবারের (১৪ জুলাই) মধ্যে হলুদ সাগরে প্রবেশ করতে পারে।
সোমবার থেকে জিলিন, লিয়াওনিং, হেবেই, শানদং, জিয়াংসু ও আনহুই প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক