ইরানে নতুন সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম, সিনেটে বিল পাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিত করতে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) ৫০-৪৮ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়, যা এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়েছিল।
এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেল। তবে ট্রাম্প এই বিলে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে এর কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও চারজন রিপাবলিকান সিনেটর দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন- বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাওস্কি, সুসান কলিন্স ও র্যান্ড পল। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেবল জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নেন।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, বছরের পর বছর ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি আমেরিকান জনগণের জন্য সর্বোচ্চ বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা ও ব্যয় তৈরি করেছেন।
চাক শুমার আরও বলেন, ইরানে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের জন্ম দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকরা এটিকে অপ্ররোচিত আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েলের লেবাননে অব্যাহত হামলার কারণে সমঝোতা টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা নির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক হামলার আশঙ্কা থাকলে সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ সতর্ক করে বলেন, এই বিল পাস হলে ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে চলে যেতে পারে।
তার ভাষায়, ইরান বলবে, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে হাত বেঁধে দিয়েছে। তখন তারা আলোচনায় থাকার প্রয়োজন দেখবে না।
জেমস রিশ আরও বলেন, ট্রাম্প এই বিলে ভেটো দেবেন, ফলে এটি বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সাম্প্রতিক রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরান যুদ্ধের খরচ সার্থক ছিল। যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস ও সারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা চেয়েছিলেন, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির হাতে না থেকে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে থাকুক।
তিনি ও চাক শুমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক