৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও এবার হারালেন নিজের পদ
২০২১ সালে মাত্র চার মিনিটের একটি জুম কলে ৯০০-এর বেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা বিশাল গর্গ। এবার সেই বিশাল গর্গই তার প্রতিষ্ঠিত মর্টগেজ কোম্পানি বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ হারিয়েছেন।
তবে পদ হারানোর পরও সিইও হিসেবে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির নতুন সিইও ড্যানিয়েল লুইস তার সঙ্গে প্রতারণা করে পরিচালনা পর্ষদের আস্থা অর্জন করে ক্ষমতা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গর্গ। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
সিএনএনকে গর্গ বলেন, সে আমাকে বোকা বানিয়েছে। সে বলেছিল, কোম্পানির কৌশল তার পছন্দ। সে এক্সে আমাদের প্রশংসা করেছিল এবং সেটি ব্যবহার করে বোর্ডে জায়গা করে নেয় ও আমাদের আস্থা অর্জন করে।
গত ৩ আগস্ট লুইসকে অন্তর্বর্তীকালীন সিইও নিয়োগ করে বেটার। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ২৭ জুলাই তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রথম ঘোষণায় বলা হয়েছিল, গর্গ ও পরিচালনা পর্ষদ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নেতৃত্বে পরিবর্তনে সম্মত হয়েছেন। পরে কোম্পানিটি জানায়, গর্গকে বাদ দিয়ে পরিচালনা পর্ষদের বাকি সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে তাকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে গর্গের ‘বিচক্ষণতা, আচরণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
তবে গর্গ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। তার দাবি, বেটার যখন দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ঠিক তখনই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মহামারির সময় পুনঃঅর্থায়ন ব্যবসার উত্থানের সময়ে বেটারের মূল্য একপর্যায়ে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার হয়েছিল। কিন্তু সুদের হার বাড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পুনঃঅর্থায়ন ব্যবসায় বড় ধস নামে।
গর্গের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বেটারের বার্ষিক বিক্রি ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালে কমে মাত্র ৭ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে চলতি বছর কোম্পানিটি প্রায় ২০ কোটি ডলার আয় করতে পারে বলে তার দাবি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মর্টগেজ প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে দাবি করেন গর্গ।
গর্গ বলেন, আমরা জিতছি। আমাদের ঋণের পরিমাণ তিন গুণ হয়েছে। আমরা লাভজনক হওয়ার খুব কাছাকাছি।
গর্গের দাবি, সিইও হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই লুইস তাকে ব্যয় কমানো এবং কোম্পানির লাভজনকতা বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। পরে তিনি পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেওয়ার পর গর্গের সন্দেহ হয়, লুইস হয়তো শুরু থেকেই সিইও হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিলেন।
গর্গ বলেন, আমার সন্দেহ, সে সবসময়ই সিইও হতে চেয়েছিল। আমি মনে করি, বোর্ড ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিইও পদ হারালেও বেটারের পরিচালনা পর্ষদে এখনও রয়েছেন তিনি। গর্গের দাবি, পদচ্যুত হওয়ার পর বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আবার সিইও হিসেবে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমনকি প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের সমর্থনসহ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার মতো ভোটাধিকারও তার রয়েছে বলে দাবি করেছেন গর্গ।
গর্গ এ বিষয়ে প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যালেক্স স্পাইরোকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং বেটারের পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাকে পুনরায় সিইও করার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন।
গর্গ আরও প্রস্তাব দিয়েছেন, কোম্পানি লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত মাত্র ১ ডলার বার্ষিক বেতনে সিইও হিসেবে কাজ করবেন। এরপর ধীরে ধীরে সরে দাঁড়াবেন।
গর্গ বলেন, এটি স্বীকার করার বিষয় যে আমি ১০ বছর ধরে এটি করছি, কিন্তু বাস্তবায়ন সবসময় নিখুঁত ছিল না। আশা করি, বিষয়টির সমাধান হবে। আমি মনে করি, বেটারের ভবিষ্যৎ এখনও খুব উজ্জ্বল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক