লেবানন যুদ্ধ অবসানে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে : আব্বাস আরাঘচি
লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, দুই দেশের অব্যাহত প্রচেষ্টায় যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
আরাঘচি জানান, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি বড় পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, এই সমঝোতার প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা হবে ‘লেবানন ডি-এস্কেলেশন সেল’ বা সংঘাত প্রশমন ব্যবস্থার কার্যকারিতা। এর মাধ্যমে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই আগামী সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের আলোচক দলের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এখন কারিগরি দলগুলো কাজ চালিয়ে যাবে।
স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ইরানি সংবাদমাধ্যমকে বাঘাই বলেন, সমঝোতা স্মারকটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি দলগুলো কাজ চালিয়ে যাবে বলে সম্মত হওয়া হয়েছে।
বাঘাই আরও বলেন, এই পর্যায়ে আলোচক দলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কারিগরি দলগুলো আগামীকালও তাদের কাজ অব্যাহত রাখবে।
বাঘাইয়ের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত কাজ চলছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা শেষ হলেও এখন চুক্তির বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা চলবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক