কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিসহ ৮ স্থাপনায় ইরানের হামলা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর টানা দুই দিনের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বড় দুটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ রোববার (২৮ জুন) আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনকে ‘চূড়ান্ত ও ধ্বংসাত্মক জবাবের’ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি বিবৃতিতে দাবি করেছে, আমাদের সাহসী বাহিনী কুয়েতের ‘আলি আল-সালেম’ বিমান ঘাঁটি ও বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পঞ্চম বহরের’ সদরদপ্তরসহ মোট ৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, জুনের মাঝামাঝিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি তথা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্তই ছিল- উভয় দেশ ও তাদের মিত্ররা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ, সামরিক অভিযান বা বলপ্রয়োগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যময় ড্রোন হামলার পর সেই চুক্তি কাগজের টুকরোয় পরিণত হয়। ওয়াশিংটন এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে শুক্রবার ও শনিবার টানা দুই দিন ইরানের উপকূলীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানল তেহরান।
আমেরিকার এই বিমান হামলাকে চুক্তির চরম লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর তারা আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো অজুহাতে শত্রু যদি আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত আগামী ৬০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘নিরাপদ পথ’ দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ইরান শর্ত দিয়েছিল, জাহাজগুলোকে কেবল তাদের উপকূল ঘেঁষে তৈরি নির্দিষ্ট ‘উত্তর করিডোর’ বা অনুমোদিত রুট দিয়েই চলাচল করতে হবে। কিন্তু ওমান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিকল্প দক্ষিণ রুট ব্যবহারের চেষ্টা করায় এবং ইরানকে না জানিয়ে জাহাজ পরিচালনা করায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আইআরজিসির স্পষ্ট বার্তা- তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ পার হতে দেওয়া হবে না। দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থানে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক