নেতানিয়াহুকে আর রাজনীতিতে চান না অধিকাংশ ইসরায়েলি
ইসরায়েলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ নাগরিকই আর নেতানিয়াহুকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাজনীতিতে দেখতে চান না। আগামী শরৎকালে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন নেতানিয়াহুর এখন রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং আগামী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ঠিক হবে না। এর বিপরীতে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। আর বাকি ৮ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই ডানপন্থী নেতার জনপ্রিয়তায় যে বড় ধরনের ধস নেমেছে, এই জরিপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষোভের মূল সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যর্থতা থেকে। দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে না পারার দায় যেমন নেতানিয়াহুর ওপর রয়েছে, তেমনই দীর্ঘ সময় ধরে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরও সব জিম্মিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে না পারা এবং হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে ব্যর্থ হওয়া সাধারণ ইসরায়েলিদের হতাশ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলাগুলো থেকে বাঁচতেই তিনি যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছেন।
এর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, তা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা বহাল রেখেই তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, লেবানন সীমান্ত পুরোপুরি নিরাপদ না করেই ইসরায়েলকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতি মানতে হয়েছে। এই বিষয়গুলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর চরম অযোগ্যতা হিসেবেই দেখছেন ইসরায়েলিরা। একই সাথে, নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে অতি-কট্টরপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট করা এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে ছাড় দেওয়ার মতো পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত সাধারণ সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে তার বিরুদ্ধে পুরোপুরি খেপিয়ে তুলেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক